ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উপসাগরে নতুন উত্তেজনা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে মুখোমুখি ইরান-আমিরাত বাংলাদেশ-কাতার জ্বালানি ও অর্থখাতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মতি কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের ভাগ্যবদলের স্বপ্নে ঘরছাড়া ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি উদ্যোগ পরিবর্তনের এপ্রিল-মার্চ হচ্ছে নতুন অর্থবছর সমঝোতার মেয়াদ শেষ ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করতে বললেন ট্রাম্প ঘুরে দাঁড়ানোর ছয় মাস “ধ্বংসস্তূপ সামলে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্র পুনর্গঠনের পথে সরকার” মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  ফেরনোর প্রক্রিয়া ভারতের সিদ্ধান্ত : চিফ প্রসিকিউটর

উদ্যোগ পরিবর্তনের এপ্রিল-মার্চ হচ্ছে নতুন অর্থবছর

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

এপ্রিল-মার্চ হচ্ছে নতুন অর্থবছর

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৭২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের অন্তর্বর্তী অর্থবছর: ২০২৮২৯ থেকে কার্যকর হবে নতুন সময়সূচি

বাংলাদেশের অর্থবছরের প্রচলিত সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে দেশে ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তী বা ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে ওই অর্থবছরটি ১২ মাসের পরিবর্তে মাত্র নয় মাস চলবে—২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ ভিত্তিক নতুন অর্থবছর পুরোপুরি কার্যকর হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন বা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কেন বদলানো হচ্ছে অর্থবছরের সময়কাল?

সরকারের যুক্তি, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থবছর জুলাই থেকে জুন হওয়ায় এর একটি বড় অংশ বর্ষাকালের সঙ্গে মিলে যায়। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টসহ বর্ষা মৌসুমে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ পরিচালনায় নানা ধরনের বাস্তব সমস্যা দেখা দেয়।

বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতির হয়ে পড়ে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বাড়ে, কাজের গুণগত মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ে।

সরকার মনে করছে, এপ্রিল থেকে মার্চ অর্থবছর চালু করা হলে বর্ষা শুরুর আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের বড় অংশ শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ার পাশাপাশি কাজের মানও উন্নত হতে পারে।

নয় মাসের হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর

নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে অর্থবছরের সময়সূচিতে সামঞ্জস্য আনতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে বিশেষভাবে নির্ধারণ করা হবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২০২৭-২৮ অর্থবছর শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১ জুলাই এবং শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ৩০ জুন। কিন্তু পরিবর্তিত ব্যবস্থার কারণে ওই অর্থবছর শেষ হবে ২০২৮ সালের ৩১ মার্চে।

অর্থাৎ—

  • ২০২৭-২৮ অর্থবছর: জুলাই ২০২৭–মার্চ ২০২৮, মোট ৯ মাস
  • ২০২৮-২৯ অর্থবছর: এপ্রিল ২০২৮–মার্চ ২০২৯, নতুন নিয়মে পূর্ণ অর্থবছর

এর মাধ্যমে বর্তমান জুলাই-জুন সময়সূচি থেকে ধীরে ধীরে এপ্রিল-মার্চ সময়সূচিতে রূপান্তর সম্পন্ন হবে।

সংবিধান ও আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এ জন্য বাংলাদেশের সংবিধান এবং General Clauses Act, 1897-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।

এ ছাড়া সরকারের বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, সরকারি হিসাব সংরক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে হবে।

বদলাতে হবে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও

অর্থবছরের সময়সূচি পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সিস্টেমেও পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি হিসাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাগুলোকে নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

এ কারণে নতুন অর্থবছর চালুর আগে সংশ্লিষ্ট সব সিস্টেমের প্রয়োজনীয় আপডেট ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পে গতি বাড়ানোর আশা

সরকারের অন্যতম প্রত্যাশা হলো, নতুন অর্থবছর বাস্তবায়িত হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মৌসুমি বাধা কমবে। এপ্রিল থেকে মার্চ সময়সূচি চালু হলে অর্থবছরের শুরুর কয়েক মাসেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে এবং বর্ষাকালের আগেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।

এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং বর্ষাকালে কাজ চালানোর প্রয়োজনও তুলনামূলকভাবে কমে আসবে।

অর্থবছরের শেষ মুহূর্তের ব্যয় কমবে?

বর্তমান অর্থবছর ৩০ জুন শেষ হওয়ায় অনেক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থবছরের শেষ দিকে দ্রুত ব্যয় করার প্রবণতা দেখা যায়। সরকারের ধারণা, নতুন সময়সূচি চালু হলে এ ধরনের শেষ মুহূর্তের তড়িঘড়ি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

প্রকল্পের কাজের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল সময়কে অর্থবছরের কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে সারা বছরজুড়ে ব্যয়ের পরিকল্পনা আরও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে বলে আশা করছে সরকার।

বড় পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কার। তাই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

আইন সংশোধনের পাশাপাশি বাজেট প্রণয়ন পদ্ধতি, সরকারি হিসাবরক্ষণ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সূচি এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়সূচি অনুযায়ী সরকারের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক নজরে নতুন অর্থবছর

বর্তমান: ১ জুলাই – ৩০ জুন
ট্রানজিশনাল অর্থবছর ২০২৭-২৮: জুলাই ২০২৭ – মার্চ ২০২৮ (৯ মাস)
নতুন অর্থবছর: ১ এপ্রিল – ৩১ মার্চ
নতুন ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর: ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে

অর্থবছরের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে। সরকারের প্রত্যাশা, নতুন সময়সূচির মাধ্যমে বর্ষাকালজনিত প্রকল্প বাস্তবায়ন সমস্যা কমবে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উদ্যোগ পরিবর্তনের এপ্রিল-মার্চ হচ্ছে নতুন অর্থবছর

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

২০২৭২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের অন্তর্বর্তী অর্থবছর: ২০২৮২৯ থেকে কার্যকর হবে নতুন সময়সূচি

বাংলাদেশের অর্থবছরের প্রচলিত সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে দেশে ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তী বা ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে ওই অর্থবছরটি ১২ মাসের পরিবর্তে মাত্র নয় মাস চলবে—২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ ভিত্তিক নতুন অর্থবছর পুরোপুরি কার্যকর হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন বা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কেন বদলানো হচ্ছে অর্থবছরের সময়কাল?

সরকারের যুক্তি, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থবছর জুলাই থেকে জুন হওয়ায় এর একটি বড় অংশ বর্ষাকালের সঙ্গে মিলে যায়। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টসহ বর্ষা মৌসুমে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ পরিচালনায় নানা ধরনের বাস্তব সমস্যা দেখা দেয়।

বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতির হয়ে পড়ে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বাড়ে, কাজের গুণগত মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ে।

সরকার মনে করছে, এপ্রিল থেকে মার্চ অর্থবছর চালু করা হলে বর্ষা শুরুর আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের বড় অংশ শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ার পাশাপাশি কাজের মানও উন্নত হতে পারে।

নয় মাসের হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর

নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে অর্থবছরের সময়সূচিতে সামঞ্জস্য আনতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে বিশেষভাবে নির্ধারণ করা হবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২০২৭-২৮ অর্থবছর শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১ জুলাই এবং শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ৩০ জুন। কিন্তু পরিবর্তিত ব্যবস্থার কারণে ওই অর্থবছর শেষ হবে ২০২৮ সালের ৩১ মার্চে।

অর্থাৎ—

  • ২০২৭-২৮ অর্থবছর: জুলাই ২০২৭–মার্চ ২০২৮, মোট ৯ মাস
  • ২০২৮-২৯ অর্থবছর: এপ্রিল ২০২৮–মার্চ ২০২৯, নতুন নিয়মে পূর্ণ অর্থবছর

এর মাধ্যমে বর্তমান জুলাই-জুন সময়সূচি থেকে ধীরে ধীরে এপ্রিল-মার্চ সময়সূচিতে রূপান্তর সম্পন্ন হবে।

সংবিধান ও আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এ জন্য বাংলাদেশের সংবিধান এবং General Clauses Act, 1897-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।

এ ছাড়া সরকারের বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, সরকারি হিসাব সংরক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে হবে।

বদলাতে হবে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও

অর্থবছরের সময়সূচি পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সিস্টেমেও পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি হিসাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাগুলোকে নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

এ কারণে নতুন অর্থবছর চালুর আগে সংশ্লিষ্ট সব সিস্টেমের প্রয়োজনীয় আপডেট ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পে গতি বাড়ানোর আশা

সরকারের অন্যতম প্রত্যাশা হলো, নতুন অর্থবছর বাস্তবায়িত হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মৌসুমি বাধা কমবে। এপ্রিল থেকে মার্চ সময়সূচি চালু হলে অর্থবছরের শুরুর কয়েক মাসেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে এবং বর্ষাকালের আগেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।

এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং বর্ষাকালে কাজ চালানোর প্রয়োজনও তুলনামূলকভাবে কমে আসবে।

অর্থবছরের শেষ মুহূর্তের ব্যয় কমবে?

বর্তমান অর্থবছর ৩০ জুন শেষ হওয়ায় অনেক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থবছরের শেষ দিকে দ্রুত ব্যয় করার প্রবণতা দেখা যায়। সরকারের ধারণা, নতুন সময়সূচি চালু হলে এ ধরনের শেষ মুহূর্তের তড়িঘড়ি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

প্রকল্পের কাজের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল সময়কে অর্থবছরের কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে সারা বছরজুড়ে ব্যয়ের পরিকল্পনা আরও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে বলে আশা করছে সরকার।

বড় পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কার। তাই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

আইন সংশোধনের পাশাপাশি বাজেট প্রণয়ন পদ্ধতি, সরকারি হিসাবরক্ষণ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সূচি এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়সূচি অনুযায়ী সরকারের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক নজরে নতুন অর্থবছর

বর্তমান: ১ জুলাই – ৩০ জুন
ট্রানজিশনাল অর্থবছর ২০২৭-২৮: জুলাই ২০২৭ – মার্চ ২০২৮ (৯ মাস)
নতুন অর্থবছর: ১ এপ্রিল – ৩১ মার্চ
নতুন ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর: ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে

অর্থবছরের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে। সরকারের প্রত্যাশা, নতুন সময়সূচির মাধ্যমে বর্ষাকালজনিত প্রকল্প বাস্তবায়ন সমস্যা কমবে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।