বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজীসহ মুহুরী ও কহুয়া নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়াতে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পটির ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।
প্রকল্পটি ফেনীর নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন করা হবে। পাশাপাশি ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব
ফেনীর উত্তরাঞ্চলের পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি, বাঁধের দুর্বলতা এবং পানি নিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতার কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে থাকে। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, বসতি ও যোগাযোগব্যবস্থা সরাসরি সম্পর্কিত।
প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাঁধ পুনর্বাসন ও নদীতীর সংরক্ষণের মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
একনেকে অনুমোদনের পর উদ্বোধন
চলতি বছরের ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের সময় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পটির উদ্বোধন হলো।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া একটার দিকে তিনি ফেনীতে পৌঁছান বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বাসসকে জানান।
ফেনী সফরে আরও কর্মসূচি
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী ফেনী সফরে আরও কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। পরশুরামে প্রকল্প উদ্বোধনের পর ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কর্মসূচি রয়েছে।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার ব্যবস্থা রয়েছে।
দিনের শেষ পর্যায়ে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচি রয়েছে। ফুলগাজীতে ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পটি ফেনীর পানি ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো পুনর্বাসনের একটি বড় উদ্যোগ। প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ সময়মতো এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, নদীতীর সংরক্ষণ ও কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত সুফল নির্ভর করবে নির্ধারিত অবকাঠামোগুলো যথাযথভাবে নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নদী ব্যবস্থাপনার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।









