ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

Amarnath : মেঘভাঙা তুমুল বৃষ্টি ও হড়পা বানে অমরনাথে ১৬ তীর্থযাত্রীর মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ জুলাই ২০২২ ৪৩৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি সংগ্রহ

সন্তোষ সেন

অমরনাথে এরই মধ্যে ১৬ জন মানুষ মারা গেছেন। নিখোঁজ কম করে ৪০ জন পুন্যার্থী, আটকে পড়েছেন বেশ কিছু বাঙালি পর্যটকও। ভেসে গেছে বহু তাঁবু। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। অমরনাথ যাত্রা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের স্মৃতি ফিরে এলো অমরনাথের মানুষের জীবনে। পরিবেশবিদদের দাবি — পাহাড়ের বুক কেটে যততত্র খননকার্য, অপরিকল্পতভাবে একের পর এক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করে রাস্তা সম্প্রসারণ ও নতুন রাস্তা নির্মাণের ফলস্বরূপ পাহাড়ে এইসব বিপর্যয় ঘটছে বারেবারে।

ভূউষ্ণায়ন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বরফের গলন এবং একদিকে অল্প সময়ে অত্যধিক বৃষ্টিপাত বন্যা, প্লাবন, ধ্বস ও অন্যদিকে তীব্র তাপপ্রবাহ, অত্যধিক আদ্রতা খরা –এসবের হাত ধরে বিশ্বজুড়েই জলবায়ু পরিবর্তন আজ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে, ঘটছে প্রাণহানি এবং চাষের ক্ষতি। আগামীদিনে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনাও দরজায় কড়া নাড়ছে। এখনো কি আমরা নীরব দর্শক হয়ে থাকব?

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, পরিবেশ মেরামতিতে এখনই ব্যবস্থা না নিলে এইসব এক্সট্রিম ঘটনাগুলো বারবার ঘটবে সারা বিশ্বজুড়েই এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তীব্রতাও বাড়ছে দিনদিন।

অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্ব ভারতের এক বড় অংশ বেশ কিছুদিন ধরেই জলমগ্ন। অসমের ৩২ টি জেলার সত্তর লক্ষের বেশি মানুষ বন্যায় বিপর্যস্ত। বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি জলের তলায়। কয়েক লক্ষ মানুষকে ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
উত্তরবঙ্গের একাধিক অঞ্চলও প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে জলমগ্ন। কয়েকদিন ধরে ভাসছে বাণিজ্য নগরী মুম্বাই, বারবার একই ঘটনা ঘটছে মুম্বাইয়ে। আগামীদিনে মুম্বাই সহ বারোটি মেট্রো শহর জলের তলায় তলিয়ে যাবে।

হিমাচল প্রদেশের সিমলাতেও কয়েকদিন আগে মানুষ প্রত্যক্ষ করলেন – মেঘ ভাঙ্গা তুমুল বৃষ্টি, হড়পা বাণ ও ধ্বসের কবলে নাজেহাল হলেন কয়েকহাজার মানুষ, একাধিক গাড়ি ভেঙেচুরে দুমড়ে গেল, বন্ধ হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা।

অথচ দক্ষিণবঙ্গে এখনো পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ। চাষের কাজও ঠিকভাবে শুরু করতে পারেননি কৃষক বন্ধুরা। তীব্র গরম ও অত্যধিক হিউমিডিটির জন্য রাস্তায় বেরনো মানুষজনের নাভিশ্বাস উঠছে।

এক শ্রেণীর মানুষের লোভ লালসা, মুনাফা আর তথাকথিত উন্নয়নের অজুহাতে প্রকৃতি পরিবেশ লুঠ চলছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। প্রকৃতির এই নিষ্পেষণ বন্ধ করতে না পারলে প্রকৃতির প্রতিশোধের মার চলতেই থাকবে ……, যার কোন শেষ নাই। বাঁচতে হলে প্রকৃতিকে বাঁচাতেই হবে, নইলে মানব প্রজাতিটাই অদূর ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে। এখনো কিছুটা সুযোগ ও সময় আছে হাতে, এখনই সঠিক ব্যবস্থা না নিলে, আর ভাবারও সুযোগ থাকবে না, আমরা নিশ্চিতরূপে পোঁছে যাব ” পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন” র দেশে। “প্রকৃতি মা” আর অত্যাচার সইতে পারছে না, সে জানান দিচ্ছে বারবার নানানভাবে, বাকিটা মানুষের হাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Amarnath : মেঘভাঙা তুমুল বৃষ্টি ও হড়পা বানে অমরনাথে ১৬ তীর্থযাত্রীর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ জুলাই ২০২২

ছবি সংগ্রহ

সন্তোষ সেন

অমরনাথে এরই মধ্যে ১৬ জন মানুষ মারা গেছেন। নিখোঁজ কম করে ৪০ জন পুন্যার্থী, আটকে পড়েছেন বেশ কিছু বাঙালি পর্যটকও। ভেসে গেছে বহু তাঁবু। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। অমরনাথ যাত্রা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের স্মৃতি ফিরে এলো অমরনাথের মানুষের জীবনে। পরিবেশবিদদের দাবি — পাহাড়ের বুক কেটে যততত্র খননকার্য, অপরিকল্পতভাবে একের পর এক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করে রাস্তা সম্প্রসারণ ও নতুন রাস্তা নির্মাণের ফলস্বরূপ পাহাড়ে এইসব বিপর্যয় ঘটছে বারেবারে।

ভূউষ্ণায়ন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বরফের গলন এবং একদিকে অল্প সময়ে অত্যধিক বৃষ্টিপাত বন্যা, প্লাবন, ধ্বস ও অন্যদিকে তীব্র তাপপ্রবাহ, অত্যধিক আদ্রতা খরা –এসবের হাত ধরে বিশ্বজুড়েই জলবায়ু পরিবর্তন আজ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে, ঘটছে প্রাণহানি এবং চাষের ক্ষতি। আগামীদিনে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনাও দরজায় কড়া নাড়ছে। এখনো কি আমরা নীরব দর্শক হয়ে থাকব?

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, পরিবেশ মেরামতিতে এখনই ব্যবস্থা না নিলে এইসব এক্সট্রিম ঘটনাগুলো বারবার ঘটবে সারা বিশ্বজুড়েই এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তীব্রতাও বাড়ছে দিনদিন।

অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্ব ভারতের এক বড় অংশ বেশ কিছুদিন ধরেই জলমগ্ন। অসমের ৩২ টি জেলার সত্তর লক্ষের বেশি মানুষ বন্যায় বিপর্যস্ত। বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি জলের তলায়। কয়েক লক্ষ মানুষকে ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
উত্তরবঙ্গের একাধিক অঞ্চলও প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে জলমগ্ন। কয়েকদিন ধরে ভাসছে বাণিজ্য নগরী মুম্বাই, বারবার একই ঘটনা ঘটছে মুম্বাইয়ে। আগামীদিনে মুম্বাই সহ বারোটি মেট্রো শহর জলের তলায় তলিয়ে যাবে।

হিমাচল প্রদেশের সিমলাতেও কয়েকদিন আগে মানুষ প্রত্যক্ষ করলেন – মেঘ ভাঙ্গা তুমুল বৃষ্টি, হড়পা বাণ ও ধ্বসের কবলে নাজেহাল হলেন কয়েকহাজার মানুষ, একাধিক গাড়ি ভেঙেচুরে দুমড়ে গেল, বন্ধ হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা।

অথচ দক্ষিণবঙ্গে এখনো পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ। চাষের কাজও ঠিকভাবে শুরু করতে পারেননি কৃষক বন্ধুরা। তীব্র গরম ও অত্যধিক হিউমিডিটির জন্য রাস্তায় বেরনো মানুষজনের নাভিশ্বাস উঠছে।

এক শ্রেণীর মানুষের লোভ লালসা, মুনাফা আর তথাকথিত উন্নয়নের অজুহাতে প্রকৃতি পরিবেশ লুঠ চলছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। প্রকৃতির এই নিষ্পেষণ বন্ধ করতে না পারলে প্রকৃতির প্রতিশোধের মার চলতেই থাকবে ……, যার কোন শেষ নাই। বাঁচতে হলে প্রকৃতিকে বাঁচাতেই হবে, নইলে মানব প্রজাতিটাই অদূর ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে। এখনো কিছুটা সুযোগ ও সময় আছে হাতে, এখনই সঠিক ব্যবস্থা না নিলে, আর ভাবারও সুযোগ থাকবে না, আমরা নিশ্চিতরূপে পোঁছে যাব ” পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন” র দেশে। “প্রকৃতি মা” আর অত্যাচার সইতে পারছে না, সে জানান দিচ্ছে বারবার নানানভাবে, বাকিটা মানুষের হাতে।