ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদীদূষণ রোধে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্য ‘সমর্থন করে না  ভারত,  জানালেন রণধীর জয়সওয়াল হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঢাকার বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

দেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যুতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংগৃহীত ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশকে কেউ কেউ এখন অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছে। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কিনা সেটি মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।

বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও সংরক্ষিত নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। এটি শুধু ২০২৪ সালের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের ধারক হবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এটি কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেক আহত যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না-এই প্রত্যাশায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।

এ সময় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘরটি আমাদের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে আছে এই জাদুঘর। এখান থেকে নতুন যাত্রাপথ রচনা হবে। আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেব।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর নানা দেশে নানা জাদুঘর আছে। তারা অতীতের অনেক জিনিস সংগ্রহ করে জাতির সামনে তুলে ধরে। কিন্তু এই জাদুঘরটি একেবারেই ভিন্ন। এখানে অতীতের কোনো সংগ্রহ নেই, বরং একেবারে টাটকা নতুন যা ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোই সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন জাদুঘর পৃথিবীতে আর আছে কিনা আমার জানা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যুতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশকে কেউ কেউ এখন অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছে। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কিনা সেটি মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।

বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও সংরক্ষিত নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। এটি শুধু ২০২৪ সালের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের ধারক হবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এটি কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেক আহত যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না-এই প্রত্যাশায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।

এ সময় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘরটি আমাদের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে আছে এই জাদুঘর। এখান থেকে নতুন যাত্রাপথ রচনা হবে। আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেব।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর নানা দেশে নানা জাদুঘর আছে। তারা অতীতের অনেক জিনিস সংগ্রহ করে জাতির সামনে তুলে ধরে। কিন্তু এই জাদুঘরটি একেবারেই ভিন্ন। এখানে অতীতের কোনো সংগ্রহ নেই, বরং একেবারে টাটকা নতুন যা ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোই সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন জাদুঘর পৃথিবীতে আর আছে কিনা আমার জানা নেই।