ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেইজিং থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমের শিকার পরিবারের ভাতা বরাদ্দ এই বাজেটেই প্রতিশ্রুতি মির্জা ফখরুলের হামে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে উদ্বেগ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন বাংলা কিউআর চালু হলে বদলে যাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপে চাপা শত শত প্রাণ, উদ্ধার ২৩৫ মরদেহ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক তিয়েনআনমেন চীনের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে গভীরতর শিল্প অংশীদারত্বে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

যুদ্ধ নয়, কৌশলে চাপ: ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি নৌ-অবরোধের নতুন হিসাব

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরাসরি সামরিক হামলার পথ থেকে সরে এসে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নৌঅবরোধ জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতোমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ নীতিনির্ধারকদের ইরানের বিরুদ্ধে এই কৌশল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে দেশটির অর্থনীতি, বিশেষ করে তেল রপ্তানি খাত চাপে পড়ে।

ওয়াশিংটনের ধারণা, সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনা অধিক কার্যকর হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন এখনো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে, অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপের তুলনায় নৌঅবরোধ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের জ্বালানি খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে।

ইরানের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও নেই বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার আগে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আরও আলোচনা করতে চান। পাকিস্তানের মাধ্যমে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনের পথ জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই নৌঅবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে কোণঠাসা করাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশল। এখন নজর থাকবে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুদ্ধ নয়, কৌশলে চাপ: ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি নৌ-অবরোধের নতুন হিসাব

আপডেট সময় : ০২:২২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সরাসরি সামরিক হামলার পথ থেকে সরে এসে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নৌঅবরোধ জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতোমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ নীতিনির্ধারকদের ইরানের বিরুদ্ধে এই কৌশল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে দেশটির অর্থনীতি, বিশেষ করে তেল রপ্তানি খাত চাপে পড়ে।

ওয়াশিংটনের ধারণা, সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনা অধিক কার্যকর হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন এখনো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে, অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপের তুলনায় নৌঅবরোধ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের জ্বালানি খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে।

ইরানের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও নেই বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার আগে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আরও আলোচনা করতে চান। পাকিস্তানের মাধ্যমে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনের পথ জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই নৌঅবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে কোণঠাসা করাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশল। এখন নজর থাকবে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই