ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদীদূষণ রোধে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্য ‘সমর্থন করে না  ভারত,  জানালেন রণধীর জয়সওয়াল হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঢাকার বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ১৫২ বার পড়া হয়েছে

মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঊনবিংশ শতকে শিল্পবিপ্লবের সময় ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের বহু শিল্পশহরে এক অদ্ভুত কিন্তু প্রয়োজনীয় পেশার মানুষের দেখা মিলত তাদের বলা হতো নকার-আপার (Knocker-up)। এই পেশার মূল কাজ ছিল কারখানার শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়া। সে সময় অ্যালার্ম ঘড়ি সাধারণ মানুষের কাছে সস্তা বা সহজলভ্য ছিল না, আর কারখানার কাজ শুরু হতো খুব ভোরে। ফলে সময়মতো জেগে ওঠা অনেক শ্রমিকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ত। এই সমস্যার সমাধান করতেন নকার-আপাররা।

ভোরবেলা তারা শহরের বিভিন্ন বাড়ির সামনে গিয়ে লম্বা লাঠি বা বাঁশ দিয়ে জানালায় টোকা দিতেন। উঁচু তলার জানালায় পৌঁছাতে তারা হালকা কিন্তু লম্বা কাঠি ব্যবহার করতেন। অনেক সময় সরু নল বা রাবারের পাইপ দিয়ে শুকনো মটরশুঁটি ছুড়ে জানালায় আঘাত করতেন, যাতে ভেতরের মানুষ জেগে ওঠে। শুধু টোকা দিয়েই তারা চলে যেতেন না, ভেতর থেকে কেউ জেগে ওঠার ইঙ্গিত না দেওয়া পর্যন্ত অনেকেই জানালার সামনে অপেক্ষা করতেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ব্যক্তি সত্যিই ঘুম থেকে উঠেছেন।

এই কাজের বিনিময়ে নকার-আপাররা সপ্তাহে কয়েক পেন্স পারিশ্রমিক পেতেন। শিল্পবিপ্লবের সময় ম্যানচেস্টারসহ বড় শিল্পশহরগুলোতে এই পেশা বেশ প্রচলিত ছিল। সাধারণত বয়স্ক পুরুষ ও নারী, এমনকি কখনও গর্ভবতী মহিলারাও এই কাজ করতেন। কিছু ক্ষেত্রে ভোরের টহলের সময় পুলিশ কনস্টেবলরাও অতিরিক্ত আয়ের জন্য এই দায়িত্ব পালন করতেন।

মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প
মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প

১৯৩১ সালে পূর্ব লন্ডনে তোলা একটি বিখ্যাত ছবিতে দেখা যায়, একজন নকার-আপার সরু নল দিয়ে মটরশুঁটি ছুড়ে জানালায় আঘাত করে মানুষকে জাগিয়ে দিচ্ছেন। মেরি স্মিথ ও তাঁর কন্যা মলি মুরও এই পেশার পরিচিত নাম, তারা দীর্ঘ রাবার নল ব্যবহার করে ক্লায়েন্টদের জানালায় শুকনো মটরশুঁটি ছুড়ে ঘুম ভাঙাতেন।

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ডারহামের ফেরিহিল অঞ্চলে খনি শ্রমিকদের বাড়ির বাইরে স্লেট বোর্ড লাগানো থাকত। সেখানে শ্রমিকরা চক দিয়ে নিজেদের কাজের শিফটের সময় লিখে রাখতেন, যাতে নকার-আপাররা নির্দিষ্ট সময়ে এসে তাদের জাগিয়ে দিতে পারেন। এই বোর্ডগুলোকে বলা হতো নকি-আপ বোর্ড বা জাগানো স্লেট।

১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে অ্যালার্ম ঘড়ি ধীরে ধীরে সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠলে এই পেশার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। ফলে নকার-আপারদের কাজ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। শিল্প ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় অবশ্য ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত এই পেশার অস্তিত্ব ছিল। পরে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নকার-আপার পেশাটি সম্পূর্ণরূপে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।

 

 

.

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প

আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ঊনবিংশ শতকে শিল্পবিপ্লবের সময় ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের বহু শিল্পশহরে এক অদ্ভুত কিন্তু প্রয়োজনীয় পেশার মানুষের দেখা মিলত তাদের বলা হতো নকার-আপার (Knocker-up)। এই পেশার মূল কাজ ছিল কারখানার শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়া। সে সময় অ্যালার্ম ঘড়ি সাধারণ মানুষের কাছে সস্তা বা সহজলভ্য ছিল না, আর কারখানার কাজ শুরু হতো খুব ভোরে। ফলে সময়মতো জেগে ওঠা অনেক শ্রমিকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ত। এই সমস্যার সমাধান করতেন নকার-আপাররা।

ভোরবেলা তারা শহরের বিভিন্ন বাড়ির সামনে গিয়ে লম্বা লাঠি বা বাঁশ দিয়ে জানালায় টোকা দিতেন। উঁচু তলার জানালায় পৌঁছাতে তারা হালকা কিন্তু লম্বা কাঠি ব্যবহার করতেন। অনেক সময় সরু নল বা রাবারের পাইপ দিয়ে শুকনো মটরশুঁটি ছুড়ে জানালায় আঘাত করতেন, যাতে ভেতরের মানুষ জেগে ওঠে। শুধু টোকা দিয়েই তারা চলে যেতেন না, ভেতর থেকে কেউ জেগে ওঠার ইঙ্গিত না দেওয়া পর্যন্ত অনেকেই জানালার সামনে অপেক্ষা করতেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ব্যক্তি সত্যিই ঘুম থেকে উঠেছেন।

এই কাজের বিনিময়ে নকার-আপাররা সপ্তাহে কয়েক পেন্স পারিশ্রমিক পেতেন। শিল্পবিপ্লবের সময় ম্যানচেস্টারসহ বড় শিল্পশহরগুলোতে এই পেশা বেশ প্রচলিত ছিল। সাধারণত বয়স্ক পুরুষ ও নারী, এমনকি কখনও গর্ভবতী মহিলারাও এই কাজ করতেন। কিছু ক্ষেত্রে ভোরের টহলের সময় পুলিশ কনস্টেবলরাও অতিরিক্ত আয়ের জন্য এই দায়িত্ব পালন করতেন।

মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প
মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প

১৯৩১ সালে পূর্ব লন্ডনে তোলা একটি বিখ্যাত ছবিতে দেখা যায়, একজন নকার-আপার সরু নল দিয়ে মটরশুঁটি ছুড়ে জানালায় আঘাত করে মানুষকে জাগিয়ে দিচ্ছেন। মেরি স্মিথ ও তাঁর কন্যা মলি মুরও এই পেশার পরিচিত নাম, তারা দীর্ঘ রাবার নল ব্যবহার করে ক্লায়েন্টদের জানালায় শুকনো মটরশুঁটি ছুড়ে ঘুম ভাঙাতেন।

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ডারহামের ফেরিহিল অঞ্চলে খনি শ্রমিকদের বাড়ির বাইরে স্লেট বোর্ড লাগানো থাকত। সেখানে শ্রমিকরা চক দিয়ে নিজেদের কাজের শিফটের সময় লিখে রাখতেন, যাতে নকার-আপাররা নির্দিষ্ট সময়ে এসে তাদের জাগিয়ে দিতে পারেন। এই বোর্ডগুলোকে বলা হতো নকি-আপ বোর্ড বা জাগানো স্লেট।

১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে অ্যালার্ম ঘড়ি ধীরে ধীরে সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠলে এই পেশার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। ফলে নকার-আপারদের কাজ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। শিল্প ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় অবশ্য ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত এই পেশার অস্তিত্ব ছিল। পরে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নকার-আপার পেশাটি সম্পূর্ণরূপে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।

 

 

.