ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২৬ বার পড়া হয়েছে

নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার, যা আগামী পাঁচ বছর দেশের নেতৃত্ব দেবে। সরকার মূলত দুইটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুতর।

বিদ্যুৎ খাতে বড় সমস্যা হচ্ছে অর্থের জোগান। সরকারিবেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কাছে দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া জমে আছে। ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (বিপ্পা) জানিয়েছে, তাদের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকা, যার অন্তত ৬০% পরিশোধ করতে হবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে। এছাড়া ভারতের আদানি পাওয়ারের কাছে সরকারের ১০০ কোটি ডলার বকেয়া আছে।

২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন চার গুণ বেড়েছে, কিন্তু বেসরকারি উৎপাদনকারীদের দেওয়া টাকার পরিমাণ ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বকেয়া পরিশোধ এবং লোকসান কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জ্বালানি খাতেও চ্যালেঞ্জ সমান। চলতি অর্থবছরে দেশে দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় খনি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ১৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ১০৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর ফলে দৈনিক ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

আগামী বছরগুলোর জন্য চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহ বাড়ছে না, ফলে ঘাটতি আরও প্রকট হবে। ২০৩০৩১ সালের মধ্যে মহেশখালীতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল চালু হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বড় গ্যাস খনি পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুতের সমস্যা মূলত ভর্তুকি বৃদ্ধির কারণে। ভর্তুকি কমানো এবং বছরের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে ভর্তুকি হ্রাস করা জরুরি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে নতুন গ্যাস খনির অনুসন্ধান অপরিহার্য। আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সরকারের মেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।

সংক্ষেপে, নতুন সরকারকে বিদ্যুৎ গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য অর্থায়ন, বকেয়া পরিশোধ এবং নতুন উৎস সৃষ্টি, পাশাপাশি ভর্তুকি হ্রাস পুনর্নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সুসংগঠিত পরিকল্পনা নিতে হবে। সফল বাস্তবায়ন না হলে দেশের শিল্প, উৎপাদন দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর প্রভাব পড়বে।

মোটামুটি, বিদ্যুৎ গ্যাস সংকট, অর্থায়ন ঘাটতি, বকেয়া পরিশোধ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার, যা আগামী পাঁচ বছর দেশের নেতৃত্ব দেবে। সরকার মূলত দুইটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুতর।

বিদ্যুৎ খাতে বড় সমস্যা হচ্ছে অর্থের জোগান। সরকারিবেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কাছে দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া জমে আছে। ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (বিপ্পা) জানিয়েছে, তাদের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকা, যার অন্তত ৬০% পরিশোধ করতে হবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে। এছাড়া ভারতের আদানি পাওয়ারের কাছে সরকারের ১০০ কোটি ডলার বকেয়া আছে।

২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন চার গুণ বেড়েছে, কিন্তু বেসরকারি উৎপাদনকারীদের দেওয়া টাকার পরিমাণ ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বকেয়া পরিশোধ এবং লোকসান কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জ্বালানি খাতেও চ্যালেঞ্জ সমান। চলতি অর্থবছরে দেশে দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় খনি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ১৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ১০৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর ফলে দৈনিক ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

আগামী বছরগুলোর জন্য চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহ বাড়ছে না, ফলে ঘাটতি আরও প্রকট হবে। ২০৩০৩১ সালের মধ্যে মহেশখালীতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল চালু হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বড় গ্যাস খনি পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুতের সমস্যা মূলত ভর্তুকি বৃদ্ধির কারণে। ভর্তুকি কমানো এবং বছরের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে ভর্তুকি হ্রাস করা জরুরি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে নতুন গ্যাস খনির অনুসন্ধান অপরিহার্য। আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সরকারের মেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।

সংক্ষেপে, নতুন সরকারকে বিদ্যুৎ গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য অর্থায়ন, বকেয়া পরিশোধ এবং নতুন উৎস সৃষ্টি, পাশাপাশি ভর্তুকি হ্রাস পুনর্নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সুসংগঠিত পরিকল্পনা নিতে হবে। সফল বাস্তবায়ন না হলে দেশের শিল্প, উৎপাদন দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর প্রভাব পড়বে।

মোটামুটি, বিদ্যুৎ গ্যাস সংকট, অর্থায়ন ঘাটতি, বকেয়া পরিশোধ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।