ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শোক আর স্মৃতির মিলন: জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত  

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে

শোক আর স্মৃতির মিলন: জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত : ছবি সংগ্রহ 

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দুই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেন মিলিত হলো ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্যানের ফটক খুলে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঢল নামে শ্রদ্ধা নিবেদনে।

জিয়া উদ্যানে পাশাপাশি দুটি কবর এখন যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নীরব দলিল। একদিকে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান, যিনি বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করেছিলেন, অন্যদিকে সেই পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া একজন নারী নেত্রী  খালেদা জিয়া, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

সমাধিস্থল উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই মানুষের ভিড় প্রমাণ করে, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষ আগ্রহী। কেউ এসেছেন দলের পরিচয়ে, কেউ এসেছেন ইতিহাসের সাক্ষী হতে, আবার কেউ নিছকই এসেছেন দোয়ার জন্য।

রাজনীতির উত্তাল সময় পার হলেও মৃত্যুর পর এই সমাধিস্থল যেন সবাইকে এক বিন্দুতে এনে দাঁড় করিয়েছে শোক, স্মৃতি আর ইতিহাসের সম্মিলনে। জিয়া উদ্যানে এখন শুধু দুটি কবর নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গভীর অধ্যায় নীরবে দর্শনার্থীদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে আছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শেরেবাংলা নগর এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। তবে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় উদ্যান বন্ধ থাকায় বিজয় স্মরণি মোড়ে প্রবেশমুখে পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে থাকতে হয় অনেককে।

ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে কেউ কেউ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাত তুলে দোয়া করেন, আবার কেউ নীরবে চোখের জল ফেলেন। দুপুরের দিকে সমাধিস্থল উন্মুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষমাণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তিই নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক দীর্ঘ পথচলারও ইতি টেনেছে, এমনটাই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সামরিক শাসন-পরবর্তী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, আবার আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিরোধী রাজনীতিরও প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ।”

জানা গেছে, সমাধিস্থল এলাকায় চলমান সংস্কারকাজের কারণেই কয়েকদিন ভেতরে প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হওয়ার পর তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। পুরো উদ্যানজুড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এর আগে বুধবার বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আবদুল মালেকের ইমামতিতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে বিকেল পৌনে পাঁচটায় তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে, স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :