ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের টিকা বিতর্কে তদন্তের ইঙ্গিত, আগে চিকিৎসায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আর্থিক খাতসহ অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সক্রিয় সমর্থন কামনা: প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত সরকারের নিজেদের জ্বালানি থাকতে বিদেশ  নির্ভরতা কেন: জ্বালানিমন্ত্রী রাজপথে আন্দোলনের স্মৃতি আর নেতাদের সঙ্গে ছবি, কোনোভাবেই অপরাধের ঢাল হতে পারে না পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য: পদে পদে হয়রানির শিকার রোগীরা উৎপাদন সক্ষমতার  নামে বিপর্যয়:  ৭ বছর ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ৬৩৩ শতাংশ ২,২৭৬ নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যার অভিযোগে আবারও ট্রাইব্যুনালে বিএনপি

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল, সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদ-নদীর জল বাড়ছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩ ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

উজানের ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদনদীতে জল বাড়ছে। সিলেটে গত কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাতে সিলেট শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের জল নেমে আসলেও সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পূর্বাভাস নেই।

সুনামগঞ্জে দুই দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি জেলায় এ মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টি। সেই সঙ্গে নেমে আসছে উজানের ঢল। এতে নদী ও হাওরে জল বাড়ছে। গত বছরও এ সময়ে এমন আবহাওয়া ছিল। ফলে গতবারের মতো এবারও ভয়াবহ বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে মানুষের মনে।

তবে নদী ও হাওরে পানি বাড়লেও বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জল উন্নয়ন বোর্ড। বলা হচ্ছে, গত তিন মাস সুনামগঞ্জে তেমন বৃষ্টি হয়নি। তাই হাওর ফাঁকা। এখন বৃষ্টি হওয়ায় হাওর- নদীতে জল ঢুকছে।

সিলেটে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদ-নদীর জল বাড়ছে। যদিও এখনও কোনো নদ-নদীর জল বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

সিলেট জল উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রের খবর, সিলেটে টানা কয়েক দিন ধরে নদ-নদীর জল বাড়ছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে জল বিপৎসীমার দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এই পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকালে ১০ দশমিক ৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর সিলেট পয়েন্টে বৃহস্পতিবার ৮ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার ৯ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রের খবর, জেলায় ১০টি উপজেলায় মোট ৬৮টি হাওর রয়েছে। নদ-নদী ও খাল-বিলের সংখ্যা ১৮৮। সব মিলে জলাশয়ের আয়তন ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাওরের আয়তন ৫৬ হাজার ৬৭৬ হেক্টর।

অন্যান্য বছর বৈশাখ মাস থেকে হাওরজুড়ে জল থাকে। কিন্তু আষাঢ় মাসে হাওরে জল নেই।
জল উন্নয়ন বোর্ড সূত্র আরও জানায়, কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার ৯ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিনই নদীর জল বাড়ছে।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর ধনু নদে হঠাৎ জল বাড়ায় হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকেরা। এমন চিত্র ধরা পড়েছে রবিবার সকালে রসুলপু ঘাটে।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ১৩৫ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ২২ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সিলেটে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বভাস রয়েছে।

এবছর জলের অভাবে মৎস্য উৎপাদন কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রখভাবে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহফুজুল হক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল, সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদ-নদীর জল বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

উজানের ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদনদীতে জল বাড়ছে। সিলেটে গত কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাতে সিলেট শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের জল নেমে আসলেও সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পূর্বাভাস নেই।

সুনামগঞ্জে দুই দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি জেলায় এ মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টি। সেই সঙ্গে নেমে আসছে উজানের ঢল। এতে নদী ও হাওরে জল বাড়ছে। গত বছরও এ সময়ে এমন আবহাওয়া ছিল। ফলে গতবারের মতো এবারও ভয়াবহ বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে মানুষের মনে।

তবে নদী ও হাওরে পানি বাড়লেও বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জল উন্নয়ন বোর্ড। বলা হচ্ছে, গত তিন মাস সুনামগঞ্জে তেমন বৃষ্টি হয়নি। তাই হাওর ফাঁকা। এখন বৃষ্টি হওয়ায় হাওর- নদীতে জল ঢুকছে।

সিলেটে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদ-নদীর জল বাড়ছে। যদিও এখনও কোনো নদ-নদীর জল বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

সিলেট জল উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রের খবর, সিলেটে টানা কয়েক দিন ধরে নদ-নদীর জল বাড়ছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে জল বিপৎসীমার দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এই পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকালে ১০ দশমিক ৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর সিলেট পয়েন্টে বৃহস্পতিবার ৮ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার ৯ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রের খবর, জেলায় ১০টি উপজেলায় মোট ৬৮টি হাওর রয়েছে। নদ-নদী ও খাল-বিলের সংখ্যা ১৮৮। সব মিলে জলাশয়ের আয়তন ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাওরের আয়তন ৫৬ হাজার ৬৭৬ হেক্টর।

অন্যান্য বছর বৈশাখ মাস থেকে হাওরজুড়ে জল থাকে। কিন্তু আষাঢ় মাসে হাওরে জল নেই।
জল উন্নয়ন বোর্ড সূত্র আরও জানায়, কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার ৯ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিনই নদীর জল বাড়ছে।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর ধনু নদে হঠাৎ জল বাড়ায় হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকেরা। এমন চিত্র ধরা পড়েছে রবিবার সকালে রসুলপু ঘাটে।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ১৩৫ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ২২ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সিলেটে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বভাস রয়েছে।

এবছর জলের অভাবে মৎস্য উৎপাদন কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রখভাবে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহফুজুল হক।