ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

হামের টিকা বিতর্কে তদন্তের ইঙ্গিত, আগে চিকিৎসায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ২১৭ বার পড়া হয়েছে

চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের তরফে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন পেলো বাংলাদেশ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল কার্যকর করতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে লাখ ৮০ হাজার ডোজ (ডব্লিউএইচও প্রাকযোগ্যতা সম্পন্ন) পোলিও ভ্যাকসিন (সাবিন স্ট্রেইন) অনুদান হিসেবে দিয়েছে।

হামের টিকা নিয়ে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা ভুল হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের আতঙ্কমুক্ত রাখা।

বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চীনের দূতাবাস ও চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক  ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে, সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করছি। তিনি জানান, হামের সংক্রমণের পর অনেক শিশুর নিউমোনিয়া দেখা দিচ্ছে এবং গুরুতর অবস্থায় ভেন্টিলেশনই হয়ে উঠছে শেষ চিকিৎসা। এ কারণে সরকার বিভিন্ন হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যাল উদ্যোক্তার মাধ্যমে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর অনুদান এসেছে, যা দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে বিতরণ করা হবে। বর্তমানে হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট, আইসিইউ সুবিধা এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হামের টিকা বিতর্কে তদন্তের ইঙ্গিত, আগে চিকিৎসায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
হামের টিকা বিতর্কে তদন্তের ইঙ্গিত, আগে চিকিৎসায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের দেওয়া ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল পোলিও ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে, যা প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ।

সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে এবং শিগগিরই পোলিও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি অ্যান্টির্যাবিস টিকাদান কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে জুন মাস নাগাদ পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাবে এবং আগের নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এদিকে যেসব শিশু এখনও টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রুটিন ইপিআই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো শিশুকে টিকার বাইরে রাখা হবে না।

টিকা ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত করবো না সেটা বলিনি। এখন আমরা সংকটকাল অতিক্রম করছি। এই ক্রাইসিস শেষ হলে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হামের টিকা বিতর্কে তদন্তের ইঙ্গিত, আগে চিকিৎসায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল কার্যকর করতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে লাখ ৮০ হাজার ডোজ (ডব্লিউএইচও প্রাকযোগ্যতা সম্পন্ন) পোলিও ভ্যাকসিন (সাবিন স্ট্রেইন) অনুদান হিসেবে দিয়েছে।

হামের টিকা নিয়ে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা ভুল হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের আতঙ্কমুক্ত রাখা।

বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চীনের দূতাবাস ও চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক  ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে, সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করছি। তিনি জানান, হামের সংক্রমণের পর অনেক শিশুর নিউমোনিয়া দেখা দিচ্ছে এবং গুরুতর অবস্থায় ভেন্টিলেশনই হয়ে উঠছে শেষ চিকিৎসা। এ কারণে সরকার বিভিন্ন হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যাল উদ্যোক্তার মাধ্যমে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর অনুদান এসেছে, যা দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে বিতরণ করা হবে। বর্তমানে হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট, আইসিইউ সুবিধা এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হামের টিকা বিতর্কে তদন্তের ইঙ্গিত, আগে চিকিৎসায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
হামের টিকা বিতর্কে তদন্তের ইঙ্গিত, আগে চিকিৎসায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের দেওয়া ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল পোলিও ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে, যা প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ।

সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে এবং শিগগিরই পোলিও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি অ্যান্টির্যাবিস টিকাদান কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে জুন মাস নাগাদ পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাবে এবং আগের নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এদিকে যেসব শিশু এখনও টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রুটিন ইপিআই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো শিশুকে টিকার বাইরে রাখা হবে না।

টিকা ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত করবো না সেটা বলিনি। এখন আমরা সংকটকাল অতিক্রম করছি। এই ক্রাইসিস শেষ হলে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।