পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আবেদনপত্র জমাদানের তারিখ থেকেই তার পদত্যাগ কার্যকর হবে। গত ২০ মাস ধরে প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, তার প্রতি যে আস্থা রাখা হয়েছে এবং নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন, সেজন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ব্যক্তিগত কারণে প্রক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন অনুভব করছেন বলেও জানান তিনি।
তবে একাডেমিক দায়িত্ব পালনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে অধ্যাপক সাইফুদ্দীন বলেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সহযোগিতা করবেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি সহকারী প্রক্টর, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক, অ্যালামনাই, শুভানুধ্যায়ী এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, নিজেকে ও পরিবারকে সময় দেওয়া এবং একাডেমিক কাজে আরও বেশি মনোযোগ দিতেই তিনি পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে হঠাৎ সরে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে সংকট তৈরি হতে পারে বিবেচনায় কিছুটা সময় নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এটি একটি রুটিন দায়িত্ব। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনের কারণে আমি একাডেমিক কাজ ও পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছিলাম না। আমার মনে হয়েছে, এখন কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয় একটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তাই এখন সরে দাঁড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
সবশেষে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা চলছিল এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।