ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

হামে মৃত্যু: ৩৫২ শিশুর পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

হামে মৃত্যু: ৩৫২ শিশুর পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ন কবীর পল্লব জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন। এতে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, দেশে হামের টিকাদান কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণেই শিশু মৃত্যুর এ মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ইউনূস সরকারের সময় হামের টিকা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবেই প্রতিদিন গড়ে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হলেও গত এক সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে দৈনিক প্রায় ১০ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ গতকালও আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে রংপুর বিভাগ থেকে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের বড় একটি অংশ এখন উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, টিকার সংকট এবং হামে শিশু মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সরকার। কারও গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, গরম আবহাওয়ায় ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, র্যাশ বা হাম-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হামে মৃত্যু: ৩৫২ শিশুর পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

আপডেট সময় : ০৪:০১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ন কবীর পল্লব জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন। এতে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, দেশে হামের টিকাদান কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণেই শিশু মৃত্যুর এ মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ইউনূস সরকারের সময় হামের টিকা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবেই প্রতিদিন গড়ে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হলেও গত এক সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে দৈনিক প্রায় ১০ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ গতকালও আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে রংপুর বিভাগ থেকে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের বড় একটি অংশ এখন উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, টিকার সংকট এবং হামে শিশু মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সরকার। কারও গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, গরম আবহাওয়ায় ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, র্যাশ বা হাম-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।