ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেইজিং থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমের শিকার পরিবারের ভাতা বরাদ্দ এই বাজেটেই প্রতিশ্রুতি মির্জা ফখরুলের হামে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে উদ্বেগ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন বাংলা কিউআর চালু হলে বদলে যাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপে চাপা শত শত প্রাণ, উদ্ধার ২৩৫ মরদেহ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক তিয়েনআনমেন চীনের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে গভীরতর শিল্প অংশীদারত্বে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো বিবেচনা করছে ইরান

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান এই মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে নিজেদের মতামত পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের জানাবে: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধ অবসান ও পারমাণবিক সমঝোতা সম্পর্কিত প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনা করছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, প্রস্তাবটি মূল্যায়ন শেষে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানাবে ইরান।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক পাতার ওই স্মারকে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এ প্রস্তাবকে “উইশ লিস্ট” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “যে যুদ্ধে আমেরিকা ব্যর্থ হচ্ছে, আলোচনার টেবিলে তারা অতিরিক্ত কিছু অর্জন করতে পারবে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান “ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত আছে” এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ছাড় না দিলে “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান সমঝোতায় রাজি না হলে “আগের চেয়েও শক্তিশালী” হামলা আবার শুরু হতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান চুক্তি অনুযায়ী সব শর্ত মানলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান “অপারেশন এপিক ফিউরি” বন্ধ করা হবে। যদিও এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় সেটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতিকে “স্থায়ী শান্তিতে” রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমলেও খুব কম জাহাজই হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বুধবার দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে একটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তার সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের “পূর্ণ সমন্বয়” রয়েছে। তিনি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।

এরই মধ্যে লেবাননেও উত্তেজনা বেড়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবার বৈরুতে হামলার পর নেতানিয়াহু দাবি করেন, হেজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো বিবেচনা করছে ইরান

আপডেট সময় : ১১:৩৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধ অবসান ও পারমাণবিক সমঝোতা সম্পর্কিত প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনা করছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, প্রস্তাবটি মূল্যায়ন শেষে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানাবে ইরান।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক পাতার ওই স্মারকে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এ প্রস্তাবকে “উইশ লিস্ট” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “যে যুদ্ধে আমেরিকা ব্যর্থ হচ্ছে, আলোচনার টেবিলে তারা অতিরিক্ত কিছু অর্জন করতে পারবে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান “ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত আছে” এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ছাড় না দিলে “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান সমঝোতায় রাজি না হলে “আগের চেয়েও শক্তিশালী” হামলা আবার শুরু হতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান চুক্তি অনুযায়ী সব শর্ত মানলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান “অপারেশন এপিক ফিউরি” বন্ধ করা হবে। যদিও এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় সেটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতিকে “স্থায়ী শান্তিতে” রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমলেও খুব কম জাহাজই হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বুধবার দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে একটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তার সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের “পূর্ণ সমন্বয়” রয়েছে। তিনি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।

এরই মধ্যে লেবাননেও উত্তেজনা বেড়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবার বৈরুতে হামলার পর নেতানিয়াহু দাবি করেন, হেজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছে।