ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় টানা ছয় দিনের বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকাল থেকে রোদ উঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। তবে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণে তাদের দুশ্চিন্তা এখনও কাটেনি।
গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টিতে দুই উপজেলার হাওরের একমাত্র বোরো ফসলের বড় অংশ তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি নদ–নদীর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আবারও বৃষ্টিপাত ও বন্যার আশঙ্কার কথা জানানোয় উদ্বেগ আরও বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিনের স্থবিরতার পর রোদ উঠতেই কৃষকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বড় বড় খলাগুলোতে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। নারী–পুরুষ সবাই ধান শুকানো, মাড়াই ও সংরক্ষণের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাড়ির উঁচু জায়গায় ত্রিপাল বা জাল বিছিয়ে ধান শুকাচ্ছেন।
তবে পরিস্থিতি সহজ নয়। মাঠে পানি জমে থাকা এবং খলা কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর ধান শুকাচ্ছেন। কেউ খলায় জমে থাকা ধান রোদে নেড়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ হাওর থেকে কেটে রাখা ধান নৌকা বা ঠেলাগাড়িতে করে এনে শুকানোর চেষ্টা করছেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে অনেক ধানে ইতোমধ্যেই চারা গজিয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক সৈয়দ হোসেন জানান, তাঁর খলায় প্রায় ১৪০ মণ ধানে চারা উঠে গেছে। তিনি বলেন, “শ্রমিক সংকটও বড় সমস্যা। ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এখন নিজেরাই কাজ করছি, আল্লাহ ভরসা।
মধ্যনগরের দুগনুই গ্রামের কৃষক মো. আকবর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হাওরে রাখা ধান আনব, নাকি খলায় থাকা নষ্ট ধান শুকাব বুঝতে পারছি না।
স্থানীয়দের দাবি, এ বছর ভাটি অঞ্চলে ৬০ শতাংশের বেশি বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগের হিসাবের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। শুধু তিন মাসের সহায়তা যথেষ্ট নয়; পরবর্তী মৌসুম পর্যন্ত খাদ্য ও কৃষি উপকরণ সহায়তা দিলে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক ধান সময়মতো কাটা ও শুকানো সম্ভব হয়নি। এখন রোদ ওঠায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার ও শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তিন মাস ৭,৫০০ টাকা ও ৩০ কেজি চাল, মধ্যম ক্ষতিগ্রস্তরা ৫,০০০ টাকা ও ২০ কেজি চাল এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তরা ২,৫০০ টাকা ও ২০ কেজি চাল পাবেন।
সব মিলিয়ে, সাময়িক রোদে কিছুটা স্বস্তি এলেও হাওরের কৃষকদের সামনে এখনো বড় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

















