ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, চা-রুটি খাইয়ে দিচ্ছিল ৯ বছরের মেয়ে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী বিরাজলক্ষী ঘোষের কবিতা ‘ঈশ্বরের সাথে মেঘের মাঝে’ সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী আয়ুর্বেদে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ  গবেষণা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী

পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনে বুধবার (৬ মে) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যদিও এখনো বাংলাদেশে এর সরাসরি প্রভাব পড়েনি, তবুও আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আমরা আশা করি, ‘পুশইন’ করার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। তারপরও সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার সীমান্ত নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে এক মাসের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলন, বিশেষ করে জুলাই মাসে সংঘটিত ঘটনাবলীর সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রস্তুত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া লাইসেন্সকৃত হলেও বর্তমানে অবৈধ হয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, এসব অপরাধ দমনে প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তার মতে, অনলাইন জুয়া ও মাদক সমস্যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে, তাই এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

চারদিনব্যাপী এই ডিসি সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশনে মাঠ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবার মান বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, রাজনৈতিক মামলার পর্যালোচনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, এই চারটি বিষয়কে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :