যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র–এর সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান সরকার নিজেরা প্রণয়ন করেনি; বরং এটি রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত আন্তর্জাতিক চুক্তি কোনো ব্যক্তিগত বা অস্থায়ী সমঝোতা নয়, যা ইচ্ছামতো বাতিল করা যায়। একটি সরকার পরিবর্তিত হলেও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা বহাল থাকে, এবং পূর্ববর্তী সরকারের করা চুক্তিগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি স্বীকৃত নীতি।
সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং চলমান চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বাণিজ্যচুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যেখানে উভয় দেশের জন্যই ‘উইন–উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। তাই এ চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগ বা বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে। প্রাপ্ত ব্যাখ্যার আলোকে বাংলাদেশ তার নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরেছে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এ ধরনের নমনীয়তা ও আলোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব কমাতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক শুল্ক–সংক্রান্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিটি পূর্ববর্তী ইউনূস সরকারের সময় সম্পাদিত হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার সেটির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাস্তবায়ন করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতায় এমন চুক্তিগুলো দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে, দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
















