আর্থিক খাতসহ অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না
- আপডেট সময় : ০৮:০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ (বিএসআইসি)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব খাটানো হবে না; প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি শুধু একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও দৃশ্যমান করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি যে মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হবে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের তরুণদের সবচেয়ে বড় দুটি সমস্যা হলো অর্থায়নের অভাব এবং জামানত দিতে না পারা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বাধাগুলো দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, সরকারের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে এই উদ্যোগ সরাসরি সম্পৃক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহুরে তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশ একটি কঠিন অর্থনৈতিক সময় অতিক্রম করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুঁজিবাজার সংস্কার এবং ব্যাপক ডিরেগুলেশনের দিকে এগোচ্ছে।
বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। ব্যাংকিং খাত ও বেসরকারি খাতের আন্ডার ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। এ প্রকল্প সফল করতে অর্থ মন্ত্রণালয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের একাধিক ব্যাংক একত্র হয়ে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।


















