ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উৎপাদন সক্ষমতার  নামে বিপর্যয়:  ৭ বছর ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ৬৩৩ শতাংশ ২,২৭৬ নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যার অভিযোগে আবারও ট্রাইব্যুনালে বিএনপি চীন সফরে ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বায়ুদূষণ : বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে ঢাকা শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা: বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ‘টানাটানি’ ট্রাম্প-পুতিনের, কোন দিকে যাবে তেহরান? বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য আমদানিতে আগ্রহী ইতালি মার্কিন আদালতের রায়েও বহাল ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক, নতুন অনিশ্চয়তায় রফতানিকারকরা পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উৎপাদন সক্ষমতার  নামে বিপর্যয়:  ৭ বছর ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ৬৩৩ শতাংশ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

উৎপাদন সক্ষমতার নামে বিপর্যয়: ৭ বছর ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ৬৩৩ শতাংশ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদই ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়েছে

বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাত গত এক যুগে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে যে আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে, তার ভয়াবহ চিত্র এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদ্যুৎখাতে নেওয়া নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, অস্বচ্ছ চুক্তি, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি এবং উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের কারণে এই খাতে ভর্তুকির পরিমাণ গত সাত বছরে সাত গুণেরও বেশি বেড়েছে। বর্তমানে এই লোকসানের ভার বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্রকে, আর শেষ পর্যন্ত এর বোঝা গিয়ে পড়ছে সাধারণ জনগণের কাঁধে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে সরকারের ভর্তুকি ছিল ৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। অথচ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ৬৩৩ শতাংশ। বিদ্যুৎ বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল লোকসানের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ভর বিদ্যুৎনীতি। আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুতের দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির নামে অসংখ্য বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দরপত্র ছাড়াই অনুমোদন দেয়।

এসব কেন্দ্রের সঙ্গে এমন চুক্তি করা হয়, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও সরকারকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরের পর বছর অলস বসে থাকলেও মালিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদই ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎখাতের এই হরিলু সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ঘিরে। এই আইন সরকারের হাতে বিশেষ ক্ষমতা দেয়, যার মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন এবং চুক্তি করা সম্ভব হয়।

সমালোচকদের মতে, এই আইনের আড়ালেই রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের লাভবান করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আর্থিক অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে পিডিবির খরচ হচ্ছে প্রায় ১২ টাকা ৩৫ পয়সা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬ টাকা ৬৩ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিটেই বিপুল লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পিডিবিকে টিকিয়ে রাখতেই বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য হবে ভয়াবহ চাপের কারণ।

ভর্তুকির পরিমাণ কীভাবে বেড়েছে, তার পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভর্তুকি ছিল ১১ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ভর্তুকি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ৬২ হাজার কোটি টাকায়। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সম্ভাব্য ভর্তুকি ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎখাতের আরেকটি বড় সমস্যা হলো আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার ব্যয়বহুল এলএনজি, কয়লা ও ডিজেলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকেছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

একই সঙ্গে ভারত থেকে আদানি পাওয়ারসহ বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিও দেশের ওপর বড় আর্থিক বোঝা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীনভাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। বাস্তবে দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বেশি হলেও গ্যাস সংকট, জ্বালানি সংকট ও সঞ্চালন দুর্বলতার কারণে উৎপাদন পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। ফলে একদিকে কেন্দ্র বসে থেকেছে, অন্যদিকে সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদ্যুৎখাতের এই বিপুল ভর্তুকির অর্থ মূলত জনগণের করের টাকা থেকেই আসছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে বাংলাদেশের প্রায় দেড় বছরের স্বাস্থ্য বাজেট অথবা আড়াই বছরের কৃষি বাজেট চালানো সম্ভব। অথচ সেই অর্থ চলে যাচ্ছে লোকসানি বিদ্যুৎকেন্দ্র, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাপনার পেছনে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, শুধু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণেই আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সংস্কার না করলে বিদ্যুৎখাত দেশের অর্থনীতির জন্য আরও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হবে। তারা অস্বচ্ছ চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন, ক্যাপাসিটি চার্জ ব্যবস্থা বাতিল, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বিদ্যুৎখাতের এই লাগামহীন লোকসান ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উৎপাদন সক্ষমতার  নামে বিপর্যয়:  ৭ বছর ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ৬৩৩ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদই ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়েছে

বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাত গত এক যুগে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে যে আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে, তার ভয়াবহ চিত্র এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদ্যুৎখাতে নেওয়া নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, অস্বচ্ছ চুক্তি, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি এবং উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের কারণে এই খাতে ভর্তুকির পরিমাণ গত সাত বছরে সাত গুণেরও বেশি বেড়েছে। বর্তমানে এই লোকসানের ভার বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্রকে, আর শেষ পর্যন্ত এর বোঝা গিয়ে পড়ছে সাধারণ জনগণের কাঁধে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে সরকারের ভর্তুকি ছিল ৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। অথচ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ৬৩৩ শতাংশ। বিদ্যুৎ বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল লোকসানের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ভর বিদ্যুৎনীতি। আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুতের দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির নামে অসংখ্য বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দরপত্র ছাড়াই অনুমোদন দেয়।

এসব কেন্দ্রের সঙ্গে এমন চুক্তি করা হয়, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও সরকারকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরের পর বছর অলস বসে থাকলেও মালিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদই ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎখাতের এই হরিলু সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ঘিরে। এই আইন সরকারের হাতে বিশেষ ক্ষমতা দেয়, যার মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন এবং চুক্তি করা সম্ভব হয়।

সমালোচকদের মতে, এই আইনের আড়ালেই রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের লাভবান করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আর্থিক অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে পিডিবির খরচ হচ্ছে প্রায় ১২ টাকা ৩৫ পয়সা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬ টাকা ৬৩ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিটেই বিপুল লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পিডিবিকে টিকিয়ে রাখতেই বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য হবে ভয়াবহ চাপের কারণ।

ভর্তুকির পরিমাণ কীভাবে বেড়েছে, তার পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভর্তুকি ছিল ১১ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ভর্তুকি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ৬২ হাজার কোটি টাকায়। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সম্ভাব্য ভর্তুকি ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎখাতের আরেকটি বড় সমস্যা হলো আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার ব্যয়বহুল এলএনজি, কয়লা ও ডিজেলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকেছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

একই সঙ্গে ভারত থেকে আদানি পাওয়ারসহ বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিও দেশের ওপর বড় আর্থিক বোঝা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীনভাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। বাস্তবে দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বেশি হলেও গ্যাস সংকট, জ্বালানি সংকট ও সঞ্চালন দুর্বলতার কারণে উৎপাদন পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। ফলে একদিকে কেন্দ্র বসে থেকেছে, অন্যদিকে সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদ্যুৎখাতের এই বিপুল ভর্তুকির অর্থ মূলত জনগণের করের টাকা থেকেই আসছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে বাংলাদেশের প্রায় দেড় বছরের স্বাস্থ্য বাজেট অথবা আড়াই বছরের কৃষি বাজেট চালানো সম্ভব। অথচ সেই অর্থ চলে যাচ্ছে লোকসানি বিদ্যুৎকেন্দ্র, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাপনার পেছনে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, শুধু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণেই আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সংস্কার না করলে বিদ্যুৎখাত দেশের অর্থনীতির জন্য আরও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হবে। তারা অস্বচ্ছ চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন, ক্যাপাসিটি চার্জ ব্যবস্থা বাতিল, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বিদ্যুৎখাতের এই লাগামহীন লোকসান ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে।