ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

 ৯ জুলাই মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০১তম জন্মবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫ ৪৯২ বার পড়া হয়েছে

 ৯ জুলাই মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০১তম জন্মবার্ষিকী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৯ জুলাই, ২০২৫ উপমহাদেশের রাজনীতির উজ্জল নক্ষত্র, ন্যাপ’র সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী, জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০১তম জন্মবার্ষিকী।

বহুমাত্রিক প্রতিভার এই মানুষ ১৯২৪ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন রংপুর জেলা আজকের নীলফামারী জেলার ডিমলার খগাখড়িবাড়ীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওসমান গনি ও মা আবিউননেছা। ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ জাতির এক ক্রান্তিকালে যাদু মিয়া ইন্তেকাল করেন। ৪০-শেষের দিকে তিনি ইয়াং ম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ছিলেন। তিনি ৫০ দশকের শেষ দিকে রংপুর জেলা বোর্ডের কনিষ্ঠতম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

৬০-এর দশকের শেষের দিকে মশিউর রহমান যাদু মিয়া ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ও আইয়ুব বিরোধী ১১ দফা আন্দোলনে তিনি জাতীয় পরিষদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার দাবি উপস্থাপন করেন এবং আন্দোলনের পে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে জাতীয় পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

১৯৬৯ সালে লায়েলপুরে কৃষক সম্মেলনে ইয়াহিয়া খানকে গাদ্দার বলার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭৭ সালে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সমন্বয়ে প্রথমে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ও পরে জাতীয়তাবাদী দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর ন্যাপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যাদু মিয়ার মতো নেতৃত্বের প্রয়োজন : বাংলাদেশ ন্যাপ

জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে তার অমর স্মৃতির প্রতি গভীরতম শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবন মানুষকে চিরদিন অনুপ্রাণিত করবে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের চলমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যাদু মিয়ার মতো মেধাবী ও সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন। ’

তারা বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী ফ্যাসীবাদমুক্ত বাংলাদেশে আজ নতুন রাজনীতির সূচনা করতে হবে, রাজনীতির নিয়ন্ত্রন রাজনীতিদিদের হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন মুক্ত রাজনীতি ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। ফ্যাসীবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর বিলোপ ঘটাতে হবে।’

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ‘মশিউর রহমান যাদু মিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র আর জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করেছেন। দেশকে সামরিক শাস থেকে গণতান্ত্রিক পক্রিয়ায় নিয়ে আশার জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যাদু মিয়ার প্রদর্শিত পথে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটাতে সংগ্রাম করতে হবে। ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলোপ ঘটাতে না পারলে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন ছিনতাই হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। আবারো নতুন করে জাতির ঘাড়ে বসে যেতে পারে ফ্যাসীবাদ। আর জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন যদি ছিনতাই হয়ে যায় তাহলে সমগ্র জাতিকে কঠিন মাসুল দিতে হবে।’

তারা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন মানেই ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার পতন নয়। ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করতে হলে, নতুন রাজনীতির সূচনা করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ফ্যাসিবাদী আদর্শের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে যাদু মিয়াকে স্মরণ করতে হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

 ৯ জুলাই মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০১তম জন্মবার্ষিকী

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

৯ জুলাই, ২০২৫ উপমহাদেশের রাজনীতির উজ্জল নক্ষত্র, ন্যাপ’র সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী, জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০১তম জন্মবার্ষিকী।

বহুমাত্রিক প্রতিভার এই মানুষ ১৯২৪ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন রংপুর জেলা আজকের নীলফামারী জেলার ডিমলার খগাখড়িবাড়ীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওসমান গনি ও মা আবিউননেছা। ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ জাতির এক ক্রান্তিকালে যাদু মিয়া ইন্তেকাল করেন। ৪০-শেষের দিকে তিনি ইয়াং ম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ছিলেন। তিনি ৫০ দশকের শেষ দিকে রংপুর জেলা বোর্ডের কনিষ্ঠতম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

৬০-এর দশকের শেষের দিকে মশিউর রহমান যাদু মিয়া ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ও আইয়ুব বিরোধী ১১ দফা আন্দোলনে তিনি জাতীয় পরিষদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার দাবি উপস্থাপন করেন এবং আন্দোলনের পে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে জাতীয় পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

১৯৬৯ সালে লায়েলপুরে কৃষক সম্মেলনে ইয়াহিয়া খানকে গাদ্দার বলার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭৭ সালে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সমন্বয়ে প্রথমে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ও পরে জাতীয়তাবাদী দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর ন্যাপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যাদু মিয়ার মতো নেতৃত্বের প্রয়োজন : বাংলাদেশ ন্যাপ

জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে তার অমর স্মৃতির প্রতি গভীরতম শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবন মানুষকে চিরদিন অনুপ্রাণিত করবে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের চলমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যাদু মিয়ার মতো মেধাবী ও সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন। ’

তারা বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী ফ্যাসীবাদমুক্ত বাংলাদেশে আজ নতুন রাজনীতির সূচনা করতে হবে, রাজনীতির নিয়ন্ত্রন রাজনীতিদিদের হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন মুক্ত রাজনীতি ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। ফ্যাসীবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর বিলোপ ঘটাতে হবে।’

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ‘মশিউর রহমান যাদু মিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র আর জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করেছেন। দেশকে সামরিক শাস থেকে গণতান্ত্রিক পক্রিয়ায় নিয়ে আশার জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যাদু মিয়ার প্রদর্শিত পথে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটাতে সংগ্রাম করতে হবে। ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলোপ ঘটাতে না পারলে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন ছিনতাই হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। আবারো নতুন করে জাতির ঘাড়ে বসে যেতে পারে ফ্যাসীবাদ। আর জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন যদি ছিনতাই হয়ে যায় তাহলে সমগ্র জাতিকে কঠিন মাসুল দিতে হবে।’

তারা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন মানেই ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার পতন নয়। ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করতে হলে, নতুন রাজনীতির সূচনা করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ফ্যাসিবাদী আদর্শের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে যাদু মিয়াকে স্মরণ করতে হবে।’