ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩৪৩ বার পড়া হয়েছে

মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইলিশের নতুন প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে টানা ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচিকে “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” নামে চিহ্নিত করেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সোমবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “আশ্বিনী পূর্ণিমার আগে চার দিন এবং অমাবস্যার পরের তিন দিনকে অন্তর্ভুক্ত করে নির্ধারিত সময়কে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরা হয়েছে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যা উভয় সময়ই ডিম ছাড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই ২২ দিনের এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫
মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫

অভিযান পরিচালনায় মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী অংশ নেবে। একইসাথে সমুদ্র, উপকূল ও মোহনায় মাছ ধরা, নদীতে ড্রেজিং এবং জলসীমার বাইরে ট্রলারের অনুপ্রবেশও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

মৎস্যজীবীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এর জন্য মোট ১৫ হাজার ৫০৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ইলিশ আহরণ প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আহরণ কমেছে ৩৩ শতাংশের বেশি এবং আগস্টে প্রায় ৪৭ শতাংশ। দুই মাসে আহরণ হয়েছে ৩৫,৯৯৩ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ কম। তবে ২০২৪ সালের অভিযানের ফলে ৫২ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছিল। এর ফলে বিপুল পরিমাণ জাটকা যুক্ত হয় উৎপাদনে, যা ভবিষ্যতে বাজারে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫
মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫

একসময় রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখত ইলিশ। ২০১০-১১ অর্থবছরে ৮,৫৩৮ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয়েছিল ৩৫২ কোটি টাকারও বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনুমোদন ছিল ২,৪২০ মেট্রিক টন, অথচ রপ্তানি হয় মাত্র ৫৭৪ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে অনুমোদন ১,২০০ মেট্রিক টন হলেও প্রকৃত রপ্তানি এখনো চলমান।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং মৎস্যজীবীদের মতামত অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আশা করি, এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াবে এবং দেশের ভেতর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতেও সহায়ক হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইলিশের নতুন প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে টানা ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচিকে “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” নামে চিহ্নিত করেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সোমবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “আশ্বিনী পূর্ণিমার আগে চার দিন এবং অমাবস্যার পরের তিন দিনকে অন্তর্ভুক্ত করে নির্ধারিত সময়কে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরা হয়েছে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যা উভয় সময়ই ডিম ছাড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই ২২ দিনের এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫
মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫

অভিযান পরিচালনায় মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী অংশ নেবে। একইসাথে সমুদ্র, উপকূল ও মোহনায় মাছ ধরা, নদীতে ড্রেজিং এবং জলসীমার বাইরে ট্রলারের অনুপ্রবেশও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

মৎস্যজীবীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এর জন্য মোট ১৫ হাজার ৫০৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ইলিশ আহরণ প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আহরণ কমেছে ৩৩ শতাংশের বেশি এবং আগস্টে প্রায় ৪৭ শতাংশ। দুই মাসে আহরণ হয়েছে ৩৫,৯৯৩ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ কম। তবে ২০২৪ সালের অভিযানের ফলে ৫২ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছিল। এর ফলে বিপুল পরিমাণ জাটকা যুক্ত হয় উৎপাদনে, যা ভবিষ্যতে বাজারে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫
মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান: অক্টোবর ৪ থেকে ২৫

একসময় রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখত ইলিশ। ২০১০-১১ অর্থবছরে ৮,৫৩৮ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয়েছিল ৩৫২ কোটি টাকারও বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনুমোদন ছিল ২,৪২০ মেট্রিক টন, অথচ রপ্তানি হয় মাত্র ৫৭৪ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে অনুমোদন ১,২০০ মেট্রিক টন হলেও প্রকৃত রপ্তানি এখনো চলমান।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং মৎস্যজীবীদের মতামত অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আশা করি, এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াবে এবং দেশের ভেতর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতেও সহায়ক হবে।”