ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বদলে গেছেন ট্রাম্প? ২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনে নজিরবিহীন ধাক্কা, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলে গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের নীলনকশা! সরকারকে বিপাকে ফেলতেই শ্রমিক আন্দোলন: দিপুর অভিযোগ শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই, প্রত্যর্পণ চায় ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গাজীপুরে  শ্রমিক অসন্তোষ, মাঠে ২৫ প্লাটুন বিজিবি-এসআরবি-আনসার সাতসকালে ঝরল চার প্রাণ  নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশায় বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আশার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩–৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ শ্রমিক বিক্ষোভে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর, ১৫০ কারখানায় ছুটি ফের ভরিতে সোনার দাম বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

বদলে গেছেন ট্রাম্প? ২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনে নজিরবিহীন ধাক্কা, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

মধ্যবর্তী নির্বাচনে নজিরবিহীন ধাক্কা, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলিনা, কানসাসের মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও পরাজয়; গভর্নর পদ হারালেন গ্রেগ অ্যাবট, সিনেটে হারলেন ট্রাম্প–ঘনিষ্ঠ একাধিক প্রার্থী। ২০২০ সালে নির্বাচনে হার মেনে না নেওয়া ট্রাম্প এবার ফল নিয়ে সরাসরি কারচুপির অভিযোগ তোলেননি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত দিল ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টিকে কার্যত ধসিয়ে দিয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

শুধু সুইং স্টেট নয়, দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজ্যেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এই ফলকে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের বড় ধরনের প্রতিবাদ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফল মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর সরাসরি নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ তোলেননি।

বরং ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য স্বীকার করে রিপাবলিকান প্রার্থীদের দুর্বলতাকে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। যদিও এই পরিবর্তন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের স্থায়ী বদল কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি।

রিপাবলিকানদের দুর্গেও ডেমোক্র্যাটদের জয়

এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপ্তি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কানসাস, আইওয়া, টেক্সাস, ওহাইও এবং সাউথ ক্যারোলিনার মতো রাজ্যে সিনেট আসন হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এই রাজ্যগুলির অনেকগুলিই দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

টেক্সাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে রিপাবলিকান শিবির। ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। একই রাজ্যে গভর্নর পদেও হেরেছেন রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবট। তাঁকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসা। ১৯৯৪ সালের পর টেক্সাসে কোনও ডেমোক্র্যাটের রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় ছিল না।

সাউথ ক্যারোলিনাতেও রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে ধাক্কা লেগেছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে সিনেট আসন দখল করেছেন। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম রাজ্যটিতে সিনেট আসন পেল ডেমোক্র্যাটরা।

কানসাসে ১৯৩২ সালের পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। রিপাবলিকান রজার মার্শালকে হারিয়েছেন অ্যাডাম হ্যামিল্টন। আইওয়াতেও রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেটে জায়গা করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক।

ওহাইওতে গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামীকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন। একই রাজ্যে সিনেট আসনও ডেমোক্র্যাটদের দখলে গিয়েছে।

ট্রাম্পের সমর্থনও বাঁচাতে পারল না প্রার্থীদের

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। দলীয় প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিও রিপাবলিকানদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমর্থনও বহু প্রার্থীকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য শুধু কংগ্রেসের নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। আইওয়ায় রব স্যান্ড এবং টেক্সাসে জিনা হিনোজোসার জয়ও রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা।

কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন ভোটাররা?

বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য, শুল্কনীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভোটার সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট। প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পিছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এবং তার জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প আগে বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করলেও ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

ওয়াটারগেটের পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা?

এবারের নির্বাচনের ফলকে ১৯৭৪ সালের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও তুলনা করছেন অনেকে। সেই সময় প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগের পর রিপাবলিকানরা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। ২০২৬ সালের ফলও মার্কিন রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এবার ডেমোক্র্যাটরা অন্তত সাতটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেট আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদেও দুই ডজনের বেশি আসন পেয়েছে তারা। ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

ট্রাম্পের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

এই নির্বাচনের পর ট্রাম্পের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয় এবং নীতিনির্ধারণ নিয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে। এমনকি অভিশংসনের দাবিও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সব নীতি সহজে কার্যকর করতে পারবেন না।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। ২০২০ সালে নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে যিনি মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘ বিতর্ক তৈরি করেছিলেন, এবার তাঁর দলের পরাজয় হয়েছে একাধিক ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান দুর্গে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে সরাসরি কারচুপির অভিযোগ না তুলে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে—তিনি কি বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন, নাকি এটি সাময়িক কৌশলগত অবস্থান? তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, আমেরিকার ভোটাররা এবার কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছেন।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ৩–৪ নভেম্বর ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বদলে গেছেন ট্রাম্প? ২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনে নজিরবিহীন ধাক্কা, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলে

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলিনা, কানসাসের মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও পরাজয়; গভর্নর পদ হারালেন গ্রেগ অ্যাবট, সিনেটে হারলেন ট্রাম্প–ঘনিষ্ঠ একাধিক প্রার্থী। ২০২০ সালে নির্বাচনে হার মেনে না নেওয়া ট্রাম্প এবার ফল নিয়ে সরাসরি কারচুপির অভিযোগ তোলেননি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত দিল ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টিকে কার্যত ধসিয়ে দিয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

শুধু সুইং স্টেট নয়, দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজ্যেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এই ফলকে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের বড় ধরনের প্রতিবাদ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফল মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর সরাসরি নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ তোলেননি।

বরং ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য স্বীকার করে রিপাবলিকান প্রার্থীদের দুর্বলতাকে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। যদিও এই পরিবর্তন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের স্থায়ী বদল কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি।

রিপাবলিকানদের দুর্গেও ডেমোক্র্যাটদের জয়

এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপ্তি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কানসাস, আইওয়া, টেক্সাস, ওহাইও এবং সাউথ ক্যারোলিনার মতো রাজ্যে সিনেট আসন হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এই রাজ্যগুলির অনেকগুলিই দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

টেক্সাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে রিপাবলিকান শিবির। ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। একই রাজ্যে গভর্নর পদেও হেরেছেন রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবট। তাঁকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসা। ১৯৯৪ সালের পর টেক্সাসে কোনও ডেমোক্র্যাটের রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় ছিল না।

সাউথ ক্যারোলিনাতেও রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে ধাক্কা লেগেছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে সিনেট আসন দখল করেছেন। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম রাজ্যটিতে সিনেট আসন পেল ডেমোক্র্যাটরা।

কানসাসে ১৯৩২ সালের পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। রিপাবলিকান রজার মার্শালকে হারিয়েছেন অ্যাডাম হ্যামিল্টন। আইওয়াতেও রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেটে জায়গা করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক।

ওহাইওতে গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামীকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন। একই রাজ্যে সিনেট আসনও ডেমোক্র্যাটদের দখলে গিয়েছে।

ট্রাম্পের সমর্থনও বাঁচাতে পারল না প্রার্থীদের

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। দলীয় প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিও রিপাবলিকানদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমর্থনও বহু প্রার্থীকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য শুধু কংগ্রেসের নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। আইওয়ায় রব স্যান্ড এবং টেক্সাসে জিনা হিনোজোসার জয়ও রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা।

কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন ভোটাররা?

বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য, শুল্কনীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভোটার সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট। প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পিছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এবং তার জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প আগে বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করলেও ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

ওয়াটারগেটের পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা?

এবারের নির্বাচনের ফলকে ১৯৭৪ সালের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও তুলনা করছেন অনেকে। সেই সময় প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগের পর রিপাবলিকানরা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। ২০২৬ সালের ফলও মার্কিন রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এবার ডেমোক্র্যাটরা অন্তত সাতটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেট আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদেও দুই ডজনের বেশি আসন পেয়েছে তারা। ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

ট্রাম্পের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

এই নির্বাচনের পর ট্রাম্পের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয় এবং নীতিনির্ধারণ নিয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে। এমনকি অভিশংসনের দাবিও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সব নীতি সহজে কার্যকর করতে পারবেন না।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। ২০২০ সালে নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে যিনি মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘ বিতর্ক তৈরি করেছিলেন, এবার তাঁর দলের পরাজয় হয়েছে একাধিক ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান দুর্গে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে সরাসরি কারচুপির অভিযোগ না তুলে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে—তিনি কি বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন, নাকি এটি সাময়িক কৌশলগত অবস্থান? তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, আমেরিকার ভোটাররা এবার কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছেন।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ৩–৪ নভেম্বর ২০২৬