ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফের ভরিতে সোনার দাম বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা শ্রমিক অসন্তোষে আজও মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে আলোকিত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের স্বীকারোক্তি দিয়ে পোস্ট, আটক যুবক ৩ নভেম্বর প্রথম সোলার  এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক অসন্তোষ পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে ৩০০ পোশাক কারখানায় ছুটি সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার ছোবল আমন চাষ হয়নি সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ, এপস্টেইন-কাণ্ডে মামলায় বড় ধাক্কা ট্রাম্পের লালন বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের সেতু ভারতীয় হাইকমিশনার উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ৩৬ শতাংশই বেকার, স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রায় ৯ লাখ

লালন বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের সেতু ভারতীয় হাইকমিশনার

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

লালন বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের সেতু ভারতীয় হাইকমিশনার

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফকির লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, লালন শাহের গান ও দর্শন মানুষে মানুষে বিভেদ দূর করে মানবতা, অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার যে বার্তা দেয়, তা কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সর্বজনীন তাৎপর্য বহন করে।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) আয়োজনে ‘লালন সন্ধ্যা ২০২৬’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, লালন শাহ কেবল একজন কিংবদন্তি বাউল সাধক, দার্শনিক ও গীতিকার নন; তিনি মানবতার এক আলোকবর্তিকা। তাঁর সংগীত ও জীবনদর্শনে সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার যে আহ্বান রয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাউলধারার গুরুত্ব অপরিসীম।

দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, লালনের গান দুই দেশের মানুষের অভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে। এই ঐতিহ্যের চর্চা ও বিকাশ পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।

লালন বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের সেতু ভারতীয় হাইকমিশনার

অনুষ্ঠানে লালন শাহের জীবন, সংগীত ও দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাংলাদেশের বিশিষ্ট বাউল ও লোকসংগীতশিল্পী শফি মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি দল ঐতিহ্যবাহী বাউলসংগীত পরিবেশন করে। পরে বাঁশিশিল্পী গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশিবাদনের সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করেন নাসরিন আখতার বিউটি। অচিন পাখি সাংস্কৃতিক একাডেমির শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে লালনগীতি পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নিগার সুলতানা সুমির নেতৃত্বাধীন ব্যান্ড ‘লালন’ ঐতিহ্যবাহী লালনগীতির সঙ্গে আধুনিক সংগীতের সৃজনশীল সমন্বয়ে পরিবেশনা উপস্থাপন করে। লালন শাহের সংগীত ও দর্শনের চিরায়ত আবেদনকে সমকালীন সংগীতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিষয়টি আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে সাত শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মঞ্জুর, সংসদ সদস্য, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত, শিল্পী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মী, সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সাবেক আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত তরুণদের অংশগ্রহণও অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লালন বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের সেতু ভারতীয় হাইকমিশনার

আপডেট সময় : ১০:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ফকির লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, লালন শাহের গান ও দর্শন মানুষে মানুষে বিভেদ দূর করে মানবতা, অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার যে বার্তা দেয়, তা কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সর্বজনীন তাৎপর্য বহন করে।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) আয়োজনে ‘লালন সন্ধ্যা ২০২৬’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, লালন শাহ কেবল একজন কিংবদন্তি বাউল সাধক, দার্শনিক ও গীতিকার নন; তিনি মানবতার এক আলোকবর্তিকা। তাঁর সংগীত ও জীবনদর্শনে সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার যে আহ্বান রয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাউলধারার গুরুত্ব অপরিসীম।

দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, লালনের গান দুই দেশের মানুষের অভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে। এই ঐতিহ্যের চর্চা ও বিকাশ পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।

লালন বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের সেতু ভারতীয় হাইকমিশনার

অনুষ্ঠানে লালন শাহের জীবন, সংগীত ও দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাংলাদেশের বিশিষ্ট বাউল ও লোকসংগীতশিল্পী শফি মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি দল ঐতিহ্যবাহী বাউলসংগীত পরিবেশন করে। পরে বাঁশিশিল্পী গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশিবাদনের সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করেন নাসরিন আখতার বিউটি। অচিন পাখি সাংস্কৃতিক একাডেমির শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে লালনগীতি পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নিগার সুলতানা সুমির নেতৃত্বাধীন ব্যান্ড ‘লালন’ ঐতিহ্যবাহী লালনগীতির সঙ্গে আধুনিক সংগীতের সৃজনশীল সমন্বয়ে পরিবেশনা উপস্থাপন করে। লালন শাহের সংগীত ও দর্শনের চিরায়ত আবেদনকে সমকালীন সংগীতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিষয়টি আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে সাত শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মঞ্জুর, সংসদ সদস্য, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত, শিল্পী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মী, সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সাবেক আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত তরুণদের অংশগ্রহণও অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।