দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
ওয়াই-আকৃতির পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা, গুরুত্ব পাবে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণের পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে সেতু দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে এ সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা এবং নির্মাণ ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য নকশা হিসেবে ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ধরনের সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ করা এবং পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া তিনটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ; পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
এ ছাড়া অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহাঃ এনামূল হক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।













