ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আশার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩–৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ শ্রমিক বিক্ষোভে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর, ১৫০ কারখানায় ছুটি ফের ভরিতে সোনার দাম বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা শ্রমিক অসন্তোষে আজও মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে আলোকিত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের স্বীকারোক্তি দিয়ে পোস্ট, আটক যুবক ৩ নভেম্বর প্রথম সোলার  এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক অসন্তোষ পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে ৩০০ পোশাক কারখানায় ছুটি

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আশার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩–৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছাদে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কিনবে সরকার, প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)  ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ হতে পারে বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে দেশের প্রতিটি সম্ভাবনাময় স্থানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদ, বাসাবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনার ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানো গেলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপও কমবে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে নিজের বাসার উদাহরণও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতি আহ্বান জানানোর আগে তিনি নিজেই তাঁর বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন। এরই মধ্যে বাসায় ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে।

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের জন্য আর্থিক সুবিধার ঘোষণাও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় নিজস্ব ব্যবহারের পর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে, তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে এই বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। এতে বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আরও আগ্রহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বক্তব্যে বিগত সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য আরও ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এভাবে দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভরতা বজায় রেখে বিদ্যুৎ খাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই দেশের নিজস্ব সম্পদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের বড় উদ্যোগ, গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

কৃষি খাতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে। এতে কৃষকের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, সোলার এক্সপোতে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি করা সম্ভব। তরুণদের নতুন ধারণা বাস্তবায়নে অর্থের অভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুক্ত ৮ হাজারের বেশি নতুন সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের প্রতিও বিশেষ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রাহকসেবার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু সৌর প্যানেল স্থাপন করলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখাও জরুরি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনে বাতি, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালু রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি শুধু বড় অবকাঠামো প্রকল্পে নয়, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর মতে, সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিকাশে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ ও নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সবশেষে সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সক্ষমতা নিশ্চিত গুরুত্বপূর্ণ।  একই সঙ্গে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আশার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩–৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ছাদে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কিনবে সরকার, প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)  ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ হতে পারে বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে দেশের প্রতিটি সম্ভাবনাময় স্থানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদ, বাসাবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনার ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানো গেলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপও কমবে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে নিজের বাসার উদাহরণও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতি আহ্বান জানানোর আগে তিনি নিজেই তাঁর বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন। এরই মধ্যে বাসায় ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে।

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের জন্য আর্থিক সুবিধার ঘোষণাও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় নিজস্ব ব্যবহারের পর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে, তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে এই বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। এতে বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আরও আগ্রহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বক্তব্যে বিগত সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য আরও ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এভাবে দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভরতা বজায় রেখে বিদ্যুৎ খাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই দেশের নিজস্ব সম্পদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের বড় উদ্যোগ, গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

কৃষি খাতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে। এতে কৃষকের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, সোলার এক্সপোতে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি করা সম্ভব। তরুণদের নতুন ধারণা বাস্তবায়নে অর্থের অভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুক্ত ৮ হাজারের বেশি নতুন সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের প্রতিও বিশেষ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রাহকসেবার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু সৌর প্যানেল স্থাপন করলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখাও জরুরি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনে বাতি, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালু রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি শুধু বড় অবকাঠামো প্রকল্পে নয়, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর মতে, সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিকাশে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ ও নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সবশেষে সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সক্ষমতা নিশ্চিত গুরুত্বপূর্ণ।  একই সঙ্গে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনা।