শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই, প্রত্যর্পণ চায় ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের দাবি পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের। প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানাল ঢাকা, পাসপোর্ট দেওয়ার প্রসঙ্গকে হাস্যকর বললেন হুমায়ুন কবির
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করেছে ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে সাধারণ কোনও যাত্রীর মতো দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক নয়। বাংলাদেশের অবস্থান হল, তাঁর প্রত্যাবর্তনের জন্য ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানানো হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের আবেদন করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে কি শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াতে আসবেন যে, তাঁকে পাসপোর্ট দেব? আমাদের সক্রিয় প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনার জন্য সেই আইনি ব্যবস্থাই রয়েছে।
ঢাকা সফররত চিনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সম্প্রতি কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা সফর শেষে বৃহস্পতিবারই দেশে ফেরেন তিনি। ফলে শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের বিষয়ে কোনও আবেদন জমা পড়েছে কি না, সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ওই সময় আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর আইনজীবীরাও হতাহতের সংখ্যা ও মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আন্দোলন ঘিরে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তারপর থেকেই তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। বাংলাদেশের তরফে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে নয়াদিল্লির তরফে এখনও তাঁকে হস্তান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ভারত এর আগে জানিয়েছে, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের পর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া, পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই রয়েছে। ফলে তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য নতুন করে পাসপোর্ট ইস্যু করার প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, সন্ত্রাসী আর অপরাধীকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।
ভারতের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ঢাকা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চায়। তাঁকে সাধারণ বাণিজ্যিক যাত্রী হিসেবে বিবেচনা করে পাসপোর্ট দিয়ে দেশে আসার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর থাকায় এই বিষয়টি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান আগামী দিনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।















