সাতসকালে ঝরল চার প্রাণ নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশায় বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল
- আপডেট সময় : ১০:১৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
প্রধান সড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি
রাজধানীতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি কোথাও যেন থামছে না এসব যানবাহনের দৌরাত্ম্য। যানবাহন চলাচলের নিয়মনীতি উপেক্ষা, অদক্ষ চালক এবং অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে সড়কে বাড়ছে ঝুঁকি।
এরই মধ্যে বুধবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের নবাবেরবাগ এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন চার যাত্রী। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।
বুধবার সকালে শাহআলী থানার নবাবেরবাগ পশ্চিমপাড়া মডেল স্কুলের সামনে বেড়িবাঁধ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই চার যাত্রীর মৃত্যু হয়।
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদনহীন এসব যান প্রধান সড়কে অবাধে চলাচল করছে।
একই সড়কে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার পাশাপাশি চলাচলের ফলে তৈরি হচ্ছে সংঘর্ষের ঝুঁকি। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে অদক্ষ চালকের বেপরোয়া চলাচল পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক চালকের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও যানবাহন চালানোর নিয়ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। আবার এসব যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং ব্যবস্থা এবং কারিগরি নিরাপত্তার বিষয়েও যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে। ফলে সামান্য অসতর্কতা কিংবা প্রতিযোগিতামূলকভাবে চলাচলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা নয়, প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন।
রাজধানীর প্রধান সড়কে অবৈধ ও অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, যানবাহনের কারিগরি সক্ষমতা যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি। অন্যথায় প্রতিদিনের যাতায়াতই সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুঝুঁকিতে পরিণত হবে। সাতসকালে চারটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার এ ঘটনা আবারও সামনে এনেছে সড়কে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ভয়াবহ বাস্তবতা।















