ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত নওগাঁ: কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১১২ বার পড়া হয়েছে

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত নওগাঁ: কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নওগাঁ জেলার জনজীবন। বুধবার সকাল ৬টায় জেলার বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। টানা কয়েকদিন ধরে হিমেল হাওয়া আর শীতল আবহাওয়ার দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে নগর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ঘন কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকলেও উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাস শীতের তীব্রতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোর থেকেই কনকনে ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না অনেক মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। শীতে নানা রোগবালাই যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

কৃষিখাতেও পড়েছে শৈত্যপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব। নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, এত ঠান্ডায় জমিতে নামতেই ভয় লাগে। তবু ধান রোপণ বন্ধ রাখা যায় না। ঠান্ডার কারণে ধান রোপণ ও অন্যান্য কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শহরের খেটে খাওয়া মানুষদের কষ্ট যেন আরও বেশি। তাজের মোড় এলাকার অটোরিকশা চালক সালাম ও বক্কর জানান, ঠান্ডার কারণে যাত্রী কমে গেছে। এই শীতে গাড়ি নিয়ে বের হতে মন চায় না, কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়, বলেন তারা। দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরাও কাজের অভাবে বিপাকে পড়েছেন।

ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে করুণ। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটাচ্ছেন। হাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা স্বপন আহমেদ জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কনকনে এই শীতে মানবিক সহানুভূতি আর সামাজিক উদ্যোগই পারে নওগাঁর অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত নওগাঁ: কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নওগাঁ জেলার জনজীবন। বুধবার সকাল ৬টায় জেলার বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। টানা কয়েকদিন ধরে হিমেল হাওয়া আর শীতল আবহাওয়ার দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে নগর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ঘন কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকলেও উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাস শীতের তীব্রতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোর থেকেই কনকনে ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না অনেক মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। শীতে নানা রোগবালাই যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

কৃষিখাতেও পড়েছে শৈত্যপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব। নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, এত ঠান্ডায় জমিতে নামতেই ভয় লাগে। তবু ধান রোপণ বন্ধ রাখা যায় না। ঠান্ডার কারণে ধান রোপণ ও অন্যান্য কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শহরের খেটে খাওয়া মানুষদের কষ্ট যেন আরও বেশি। তাজের মোড় এলাকার অটোরিকশা চালক সালাম ও বক্কর জানান, ঠান্ডার কারণে যাত্রী কমে গেছে। এই শীতে গাড়ি নিয়ে বের হতে মন চায় না, কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়, বলেন তারা। দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরাও কাজের অভাবে বিপাকে পড়েছেন।

ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে করুণ। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটাচ্ছেন। হাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা স্বপন আহমেদ জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কনকনে এই শীতে মানবিক সহানুভূতি আর সামাজিক উদ্যোগই পারে নওগাঁর অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে।