ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমঝোতা না হলে ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের দেশ গঠনে নাগরিক দায়িত্ব আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঈদের টানা সাতদিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত ঢাকায় পশু কোরবানি ৭লাখ: সাভার ট্যানারী পল্লীতে চামড়া  ঢুকেছে সোয়া ৫ লাখ প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে  ৪১৯ জন হজযাত্রী ঢাকায় পৌঁছেছেন চামড়া: অর্থনীতিতে আয়ের উৎস, সেই মূল্যবান সম্পদের এমন অর্থহীন পরিণতি! সড়ক নয়, যেন মৃত্যুর উপত্যকা! লোবানের গন্ধে ফিকে ঈদের আনন্দ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে  উল্লেখযোগ্য পতন, কেন? ঈদুল আজহায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা দেশজুড়ে উৎসবের আমেজে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা

রাজশাহীজুড়ে ছোঁয়াছে হামের প্রাদুর্ভাব, শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগহাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেত্রে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তত্ত্বাবধানে বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত নমুনা ঢাকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা প্রায় ২৯ শতাংশ।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি বাড়তে থাকে। বর্তমানে বিভাগের আটটি জেলাতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএ। সেখানে হামের উপসর্গ থাকা শিশুদের অন্য রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা সংক্রমণ আরও বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।

চিকিৎসা নির্দেশনা অনুযায়ী সংক্রমিত রোগীদের আলাদা আইসোলেশনে রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচিকাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। রোগের জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ মস্তিষ্কে প্রদাহসহ মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১২টি, অথচ রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেশি। ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের আইসিইউতে নেওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যে কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হুমায়রা ফারহানার মৃত্যু বিশেষভাবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদেহামউল্লেখ না করে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য কারণ লেখা হচ্ছে, ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নেই। এছাড়া ২০০ শয্যার বিপরীতে ৭০০ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একই ধরনের চাপ দেখা গেছে বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর মধ্যেই হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত উপসর্গযুক্ত শিশুদের আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীজুড়ে ছোঁয়াছে হামের প্রাদুর্ভাব, শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৫:২৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগহাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেত্রে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তত্ত্বাবধানে বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত নমুনা ঢাকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা প্রায় ২৯ শতাংশ।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি বাড়তে থাকে। বর্তমানে বিভাগের আটটি জেলাতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএ। সেখানে হামের উপসর্গ থাকা শিশুদের অন্য রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা সংক্রমণ আরও বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।

চিকিৎসা নির্দেশনা অনুযায়ী সংক্রমিত রোগীদের আলাদা আইসোলেশনে রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচিকাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। রোগের জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ মস্তিষ্কে প্রদাহসহ মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১২টি, অথচ রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেশি। ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের আইসিইউতে নেওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যে কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হুমায়রা ফারহানার মৃত্যু বিশেষভাবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদেহামউল্লেখ না করে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য কারণ লেখা হচ্ছে, ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নেই। এছাড়া ২০০ শয্যার বিপরীতে ৭০০ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একই ধরনের চাপ দেখা গেছে বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর মধ্যেই হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত উপসর্গযুক্ত শিশুদের আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।