ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একটানে জালে ওঠে আসে ২৬ লাখ টাকার ২ হাজার ২০০টি কাঙ্খিত  ইলিশ  কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন  বাড়ানোর তাগিদ  প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব  আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট চায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত হুমায়ুন ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ রামপালের এক ইউনিট বন্ধ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক শেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ শেরপুরে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধের চালান জব্দ ‘আমেরিকানরা যোদ্ধা হলে ইরানের বীর বাহিনীর মুখোমুখি হোক’: পেজেশকিয়ান আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

মোবাইল গ্রাহক যেন হয়রানির শিকার না হন: জব্বার

ভয়েস রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১ ২৯৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টেলিকম সেক্টরে এনইআইআর একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের পাশাপাশি ডিজিটাল অপরাধের বিস্তার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অবৈধ হ্যান্ডসেট চোরাচালান ও ডিজিটাল নিরাপত্তা।

ন্যাশনাল ইক্যুপমেন্ট আইডেন্টিটি (এনইআইআর) প্রক্রিয়ায় জনগণ যেন কোনো অবস্থাতেই হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি  খেয়াল রাখতে হবে।   গ্রাহকদের নিরাপত্তা, অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি বন্ধ ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বৃহস্পতিবার  ন্যাশনাল ইক্যুপমেন্ট আইডেন্টিটির (এনইআইআর) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

এই প্রক্রিয়ায় সব মোবাইল ফোন বিটিআরসির ডাটাবেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং তিন মাস পর্যন্ত অবৈধ ফোনগুলোকে সময় দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ওই সময় পরে বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সিমের সাথে মোবাইলের আইএমইএ নম্বরটি নিয়ে রাখছি, যাতে অপরাধীদের সহজেই শনাক্ত করা যায়। যারা সমাজকে নিরাপদ রাখতে চান তাদের জন্য একটি হাতিয়ার তৈরি করে রাখছি। দুর্বলতার ফাঁক দিয়ে যারা অপরাধ করছে, রাজস্ব ফঁকি দিচ্ছে বা অবৈধ মোবাইল আমদানি করছে— তা যেন বন্ধ করা যায়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, গ্রাহক যেন হয়রানির শিকার না হয়। জনগণ যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এর সুফলগুলো দেখতে পায়, স্বচ্ছ ও চমৎকারভাবে যেন মোবাইল নিবন্ধন করতে পারে, কোনোভাবেই যেন জনগণের কাজে সামান্য ভোগান্তি হয়, সেই ব্যবস্থা না করি।

‘অভিযোগ যেন না উঠে কল করেছে ধরিনি বা সমস্যা সমাধান করিনি। অপরাধীকে খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়। তেমনি যারা ভুল করে তাকেও সহজেই চিহ্নিত করা যায়। ’

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, আমরা টেলিফোনকেন্দ্রিক অপরাধ এবং অন্যান্য অপরাধের খবরাখবর পেয়ে থাকি। আমাদের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে এর শিকার হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি সমাজ এবং রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য যা যা করার তা করছি। সারা বিশ্ব প্রযুক্তিগত দিক থেকে যা করছে আমরাও তা করছি। সেজন্য আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপরাধের জন্য।

টেলিফোন জগৎ যেমন বিস্তৃত হয়েছে তেমনি এর সাথে অপরাদের জগৎটাও বেশ বিস্তৃত হয়ে গেছে। এই বিস্তৃত জগৎকে যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তাহলে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র কোন কোন সময়ে বিপন্ন অবস্থার মধ্যে পৌঁছে যাবো।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, অপনারা প্রায় লক্ষ্য করছেন মোবাইল ছিনতাই বা চুরি হওয়া—এটা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, প্রায় প্রতি মুহূর্তে কোথাও না কোথাও এই ঘটনা ঘটে। আমাদের আসলে চোরেরা দেখে না কার জিনিস চুরি করছে। আমাদের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেরই এই ঘটনার শিকার হতে হয়। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরে আমরা চুরি রোধ করতে পারবো।

একই সাথে আমাদের রাজস্ব খাত বড় ধরনের সহয়তা পাবে। কোনো রাষ্ট্র চোরাচালানিকে উৎসাহ দিতে পারে না। কেউ চোরাচালানি করে রাষ্ট্রের সম্পদ আত্মসাৎ করবে, সেটা করতে দেওয়া যায় না। এটি চালু করার সময় এই বিষয়টি মাথায় ছিল।

তিনি বলেন, নিবন্ধনের বাইরে সব সেট বন্ধ করে দিচ্ছি তা না। যে সেটগুলো মানুষ ব্যবহার করছে সেগুলো নিবন্ধন শেষ করে একটি নির্দিষ্ট সময় দেয়া, বৈধ-অৈবৈধ সেটগুলো কোনটি চালু থাকবে তা অনেক পরে চিন্তা করবো।

মন্ত্রী নির্দেশনা দেন, প্রতিটি সেট নিবন্ধনের কাজটি যেন সম্পন্ন হয়। কেউ যেন কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয়। কারণ আমরা বলেছি নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে, এটা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এটা না হলে বহু গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিটিআরসির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মোবাইল গ্রাহক যেন হয়রানির শিকার না হন: জব্বার

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১

টেলিকম সেক্টরে এনইআইআর একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের পাশাপাশি ডিজিটাল অপরাধের বিস্তার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অবৈধ হ্যান্ডসেট চোরাচালান ও ডিজিটাল নিরাপত্তা।

ন্যাশনাল ইক্যুপমেন্ট আইডেন্টিটি (এনইআইআর) প্রক্রিয়ায় জনগণ যেন কোনো অবস্থাতেই হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি  খেয়াল রাখতে হবে।   গ্রাহকদের নিরাপত্তা, অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি বন্ধ ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বৃহস্পতিবার  ন্যাশনাল ইক্যুপমেন্ট আইডেন্টিটির (এনইআইআর) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

এই প্রক্রিয়ায় সব মোবাইল ফোন বিটিআরসির ডাটাবেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং তিন মাস পর্যন্ত অবৈধ ফোনগুলোকে সময় দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ওই সময় পরে বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সিমের সাথে মোবাইলের আইএমইএ নম্বরটি নিয়ে রাখছি, যাতে অপরাধীদের সহজেই শনাক্ত করা যায়। যারা সমাজকে নিরাপদ রাখতে চান তাদের জন্য একটি হাতিয়ার তৈরি করে রাখছি। দুর্বলতার ফাঁক দিয়ে যারা অপরাধ করছে, রাজস্ব ফঁকি দিচ্ছে বা অবৈধ মোবাইল আমদানি করছে— তা যেন বন্ধ করা যায়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, গ্রাহক যেন হয়রানির শিকার না হয়। জনগণ যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এর সুফলগুলো দেখতে পায়, স্বচ্ছ ও চমৎকারভাবে যেন মোবাইল নিবন্ধন করতে পারে, কোনোভাবেই যেন জনগণের কাজে সামান্য ভোগান্তি হয়, সেই ব্যবস্থা না করি।

‘অভিযোগ যেন না উঠে কল করেছে ধরিনি বা সমস্যা সমাধান করিনি। অপরাধীকে খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়। তেমনি যারা ভুল করে তাকেও সহজেই চিহ্নিত করা যায়। ’

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, আমরা টেলিফোনকেন্দ্রিক অপরাধ এবং অন্যান্য অপরাধের খবরাখবর পেয়ে থাকি। আমাদের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে এর শিকার হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি সমাজ এবং রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য যা যা করার তা করছি। সারা বিশ্ব প্রযুক্তিগত দিক থেকে যা করছে আমরাও তা করছি। সেজন্য আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপরাধের জন্য।

টেলিফোন জগৎ যেমন বিস্তৃত হয়েছে তেমনি এর সাথে অপরাদের জগৎটাও বেশ বিস্তৃত হয়ে গেছে। এই বিস্তৃত জগৎকে যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তাহলে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র কোন কোন সময়ে বিপন্ন অবস্থার মধ্যে পৌঁছে যাবো।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, অপনারা প্রায় লক্ষ্য করছেন মোবাইল ছিনতাই বা চুরি হওয়া—এটা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, প্রায় প্রতি মুহূর্তে কোথাও না কোথাও এই ঘটনা ঘটে। আমাদের আসলে চোরেরা দেখে না কার জিনিস চুরি করছে। আমাদের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেরই এই ঘটনার শিকার হতে হয়। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরে আমরা চুরি রোধ করতে পারবো।

একই সাথে আমাদের রাজস্ব খাত বড় ধরনের সহয়তা পাবে। কোনো রাষ্ট্র চোরাচালানিকে উৎসাহ দিতে পারে না। কেউ চোরাচালানি করে রাষ্ট্রের সম্পদ আত্মসাৎ করবে, সেটা করতে দেওয়া যায় না। এটি চালু করার সময় এই বিষয়টি মাথায় ছিল।

তিনি বলেন, নিবন্ধনের বাইরে সব সেট বন্ধ করে দিচ্ছি তা না। যে সেটগুলো মানুষ ব্যবহার করছে সেগুলো নিবন্ধন শেষ করে একটি নির্দিষ্ট সময় দেয়া, বৈধ-অৈবৈধ সেটগুলো কোনটি চালু থাকবে তা অনেক পরে চিন্তা করবো।

মন্ত্রী নির্দেশনা দেন, প্রতিটি সেট নিবন্ধনের কাজটি যেন সম্পন্ন হয়। কেউ যেন কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয়। কারণ আমরা বলেছি নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে, এটা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এটা না হলে বহু গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিটিআরসির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।