বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক ছাতার নিচে পোশাক ও বস্ত্র খাত
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
এলডিসি উত্তরণে যৌথ কৌশলের তাগিদ
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও টেক্সটাইল খাত বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন, বৈশ্বিক ট্যারিফ নীতির রূপান্তর এবং নানামুখী নীতিগত বাধা মোকাবিলায় পোশাক ও বস্ত্র খাতের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে বিজিএমইএ, বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনকে একটি সমন্বিত নীতিগত কৌশলের আওতায় কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার গুলশান ক্লাবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) মধ্যে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন’ আয়োজনসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারী ক্ষমতায়নে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশের বেশি এ খাত থেকে আসে। একই সঙ্গে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৬০ শতাংশের সঙ্গে পোশাক ও টেক্সটাইল খাত সরাসরি যুক্ত।
তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা কমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ‘টু-স্টেপ ডেরোগেশন’-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার কোনো বিকল্প নেই।
বিসিআই সভাপতি বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা ডিজিটালাইজেশনের মতো সম্ভাবনাময় নতুন খাতগুলোতে বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগবে। ফলে এ পরিবর্তনকালীন সময়ে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকেই অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।
বর্তমান সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংকট নিরসন এবং নীতিগত সহায়তা প্রদানে সরকার ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত ২৫টি প্রধান বাধার মধ্যে ১৫টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। বিটিএমএ ও বিজিএমইএ যৌথভাবে কাজ করলে নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি অনেকটাই কমবে এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
তিনি স্থানীয় সুতা ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট নগদ সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের স্পিনিং মিলগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক মানের মেশিনারি প্রদর্শনী আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিল্প উদ্যোক্তাদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তোলার পথও সহজ হয়।
তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী করা গেলে দেশীয় টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের ক্ষেত্রেও শক্তিশালী স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কম বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ থাকায় প্রতিযোগী দেশগুলো তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পকে বিশেষ নীতিগত সহায়তা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশেও এই খাতের সব সংগঠন একসঙ্গে বসে সমন্বিত নীতিগত কৌশল নির্ধারণ করতে পারলে বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে আলাদা আলাদাভাবে নয়, বরং একই ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণই বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত হয়ে উঠছে।










