ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে আটক কোটি কোটি টাকার পণ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৬৪২ বার পড়া হয়েছে

বেনাপোল পোস্ট কাস্টমস আটককৃত কোটি কোটি টাকার পণ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে (ওপরে) ডানে বাথ রুমের পাশে পোকার বসতি, নিচে পাসপোর্ট যাত্রী শ্যামলী ও ছালাম: আনিছুর রহমান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিলাম না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব

আনিছুর রহমান, বেনাপোল

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বিপুল কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হচ্ছে। আটক করা পণ্য রাখার জায়গার অভাবে কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষের বারান্দাসহ যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার কারণে পচে-গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেনাপোল কাস্টমসের খামখেয়ালী, অব্যবস্থাপনার এবং দায়হীনতার কারণেই কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ভারত থেকে আসা পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ করা এসব পণ্য বছরের পর বছর পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

আটক পণ্য ট্যাক্স দিয়ে সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা ছাড় করিয়ে নিতেন। কিন্তু গত বছর তিনেক আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৩০০ শতাংশ ট্যাক্স ঘোষনার পর আটক পণ্য খালাসে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে কাস্টমস হাউসের গোডাউনে জায়গা সংকট থাকায় বেনাপোল চেকপোষ্ট সুপার-এর রুম, যাত্রীদের গেষ্ট রুম, বাথরুম এবং দ্বিতীয় তলায় বারান্দায় ভারতীয় এসব পণ্যে সয়লাব।

আটক পণ্যের স্লিপধারী যাত্রীরা দীর্ঘক্ষন দাড়িয়ে থেকেও তাদের পণ্য না পেয়ে চলে যান। পরে সেসব পণ্য অসাধু কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা এবং ডিএম বিহীন আটক পণ্য হাতিয়ে নেবার অভিযোগ রয়েছে।

বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমসে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই তিন বছরের পণ্য জমা থাকার কারণে নতুন কোন পণ্য রাখার জায়গা নেই। পচে গলে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রের প্রধান ফটক বেনাপোল চেকপোষ্ট। এ পথে দেশী বিদেশী যাত্রীরা যাতায়াত করে থাকেন। ইমিগ্রেশন এর ডেস্কে পুলিশ কর্মকর্তারা দুর্গন্ধে নাক চেপে দায়িত্ব পালন করেন।

ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী আব্দুস সালাম (পাসপোর্ট নং জেড এ ১৩০২১১) জানান, তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মাত্র ১টি শাড়ী ৮টি ফেস ওয়াস এবং ৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়ে। কাস্টমস নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রী ৪০ কেজি পণ্য আনার বিধান রয়েছে । কিন্তু কোন কিছু না মেনে সিরাজ নামের একজন তার পণ্য ডিএম করিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, আমাকে ডিএম স্লিপে স্বাক্ষর করতে বলে আমি না করায় আমাকে তাড়িয়ে দেয়।

শ্যামলী ( পাসপোর্ট নং জেড ৮০৬০০২২) নামে ভারতীয় এক প্রতিবন্ধী নারী মাত্র ২টি শাড়ি নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। বেনাপোল কাস্টমসের সিরাজ জোর করে শাড়ি দুইটি রেখে দেন। ল্যাগেজ সুবিধায় শাড়ি আনার সুযোগ রয়েছে। লাঠি ভর করে হাটাচলা করেন এই নারী। অনেক কাকুতি মিনতি করেও সিরাজী আমার শাড়ি না দিয়ে আমাকে স্লিপ দিয়ে বের করে দেন। এভাবে কাস্টমস জোর করে অনেকের পণ্য রেখে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ দিন হলেও কোন পণ্যের নিলাম করছে না কাস্টমস এবং ল্যাগেজ সুবিধা পণ্য রেখে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস সুপার নাজমুল সিরাজী বলেন, একটি দুইটি শাড়ি রাখার কথা না তারপর কে রেখেছে তা দেখা হবে। নিলাম এর বিষয়টি আমাদের হাতে নয়, এটা উর্ধ্বোতন কর্মকর্তাদের বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে আটক কোটি কোটি টাকার পণ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে

আপডেট সময় : ০৩:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিলাম না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব

আনিছুর রহমান, বেনাপোল

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বিপুল কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হচ্ছে। আটক করা পণ্য রাখার জায়গার অভাবে কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষের বারান্দাসহ যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার কারণে পচে-গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেনাপোল কাস্টমসের খামখেয়ালী, অব্যবস্থাপনার এবং দায়হীনতার কারণেই কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ভারত থেকে আসা পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ করা এসব পণ্য বছরের পর বছর পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

আটক পণ্য ট্যাক্স দিয়ে সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা ছাড় করিয়ে নিতেন। কিন্তু গত বছর তিনেক আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৩০০ শতাংশ ট্যাক্স ঘোষনার পর আটক পণ্য খালাসে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে কাস্টমস হাউসের গোডাউনে জায়গা সংকট থাকায় বেনাপোল চেকপোষ্ট সুপার-এর রুম, যাত্রীদের গেষ্ট রুম, বাথরুম এবং দ্বিতীয় তলায় বারান্দায় ভারতীয় এসব পণ্যে সয়লাব।

আটক পণ্যের স্লিপধারী যাত্রীরা দীর্ঘক্ষন দাড়িয়ে থেকেও তাদের পণ্য না পেয়ে চলে যান। পরে সেসব পণ্য অসাধু কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা এবং ডিএম বিহীন আটক পণ্য হাতিয়ে নেবার অভিযোগ রয়েছে।

বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমসে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই তিন বছরের পণ্য জমা থাকার কারণে নতুন কোন পণ্য রাখার জায়গা নেই। পচে গলে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রের প্রধান ফটক বেনাপোল চেকপোষ্ট। এ পথে দেশী বিদেশী যাত্রীরা যাতায়াত করে থাকেন। ইমিগ্রেশন এর ডেস্কে পুলিশ কর্মকর্তারা দুর্গন্ধে নাক চেপে দায়িত্ব পালন করেন।

ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী আব্দুস সালাম (পাসপোর্ট নং জেড এ ১৩০২১১) জানান, তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মাত্র ১টি শাড়ী ৮টি ফেস ওয়াস এবং ৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়ে। কাস্টমস নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রী ৪০ কেজি পণ্য আনার বিধান রয়েছে । কিন্তু কোন কিছু না মেনে সিরাজ নামের একজন তার পণ্য ডিএম করিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, আমাকে ডিএম স্লিপে স্বাক্ষর করতে বলে আমি না করায় আমাকে তাড়িয়ে দেয়।

শ্যামলী ( পাসপোর্ট নং জেড ৮০৬০০২২) নামে ভারতীয় এক প্রতিবন্ধী নারী মাত্র ২টি শাড়ি নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। বেনাপোল কাস্টমসের সিরাজ জোর করে শাড়ি দুইটি রেখে দেন। ল্যাগেজ সুবিধায় শাড়ি আনার সুযোগ রয়েছে। লাঠি ভর করে হাটাচলা করেন এই নারী। অনেক কাকুতি মিনতি করেও সিরাজী আমার শাড়ি না দিয়ে আমাকে স্লিপ দিয়ে বের করে দেন। এভাবে কাস্টমস জোর করে অনেকের পণ্য রেখে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ দিন হলেও কোন পণ্যের নিলাম করছে না কাস্টমস এবং ল্যাগেজ সুবিধা পণ্য রেখে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস সুপার নাজমুল সিরাজী বলেন, একটি দুইটি শাড়ি রাখার কথা না তারপর কে রেখেছে তা দেখা হবে। নিলাম এর বিষয়টি আমাদের হাতে নয়, এটা উর্ধ্বোতন কর্মকর্তাদের বিষয়।