ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

বিরহী কেকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ২৯৩ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিঝুম রাত্রির অন্ধকারে বিরহী কেকা গাছের ঘন পাতার আড়ালে মুখ লুকিয়ে নীরবে কাঁদে । ভয়ে কাঁপে তির তির করে । আলো খোঁজে ওর দু’নয়ন। অবশেষে অমানিশা ফিকে হয়ে অস্পষ্ট ভোর হয় মিষ্টি আলোর ভেজা পরশ নিয়ে।

পাতার আড়াল থেকে মুখ তুলে ঠান্ডা হাওয়ায় নিশ্বাস নেয় কেকা। আস্তে আস্তে বন্ধুর মত উদ্ভাসিত ভোর তার আলোকে বিরহ কাতর কেকাকে জড়িয়ে ধরে। বৈশাখী তপ্ত হাওয়া প্রকট হতে থাকে। তবুও খুশিতে এ ডাল ওডালে উড়ে প্রান ভরে আলোর সুধা পান করে শিশু মন কেকা ।

ওর জগতটা খুব বড় নয়। কাজী বাড়ীর আম বাগান ওর ঘুরে বেড়ানোর গন্ডি। কোন এক তপস্বী পাখির ধ্যান ভঙ্গ করে ও অভিশপ্ত! তাই মানিয়ে নিয়েছে তার বাগানটিকে। এক বুক কষ্টে প্রখর রদ্দুরে উঁচু ডালে বসে ঘাসের তীব্র সবুজ রঙ, নদীর সাদা জল, দূরে জেলেদের মাছ ধরা, রাখাল, গরু আরো অনেক কিছু দেখে সে। ভালো লাগে।

প্রেমহীন কেকার শাপমোচন কি হবে না কোনদিন? ওর সরল, নিষ্পাপ মন অজান্তেই বিঘ্ন ঘটিয়েছিল তপস্বী পাখীর। মনে মনে ভাবে এ কী পরিহাস? সে তো অবুঝ আর সবুজ মনের ছিল। তাহলে কেন এমন নিষ্ঠুরতা!

গরম হাওয়ার নিঃশ্বাসে ওর ঘোর কাটে সত্যি কি অভিশাপ হয়? কুহু যে নিজেই প্রতারণা করেছে তার সাথে। প্রকৃতির অমোঘ টানে তারা কাছে এসেছিল। কত দিন কত আলোর বন্যায় মালা পরিয়েছিল সে তাকে। কত গাছ ঘুরে মিষ্টি ফল এনে দিয়েছিল। এমনি ভাবে কাটছিল তার স্বপ্নময় দিন।

তারপর এলো সেই অশুভ ক্ষণ! একদিন বুঝতে পারে কেকা, কুহুর কুহক মায়ায় বন্দী ছিল সে। পালিয়ে গেছে তার মনপাখী। শুন্য দৃষ্টি , শুন্য খড় পাতার বাসা মিথ্যে হল এক নিমেষে ! অদৃশ্য কালো মেঘ ঢেকে দিল তার পৃথীবি! ছিল কি শুধুই ছলনা? ভালোবাসা কি সত্যি ছিলনা এক হিন্দু? কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তার।

একদিন ভরা জ্যোৎস্নায় একটি মিষ্টি ডুমুর ফল এনে ঠোঁটে করে খাইয়ে তার বুকের পালকে ঠোঁট মুছে কুহু বলেছিল সে শুধু কেকার। পরের দিন ভোর হল তার অচেনা। কুহু পালিয়ে গেছে। সেই থেকে রাত্রি হলে কেকা কাঁদে, ভয় পায়! সব হারানোর ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে ওর নরম শরীর।

দিনের আলোর গরম হাওয়া , নীলাকাশ , শীতল ভোর আর স্বচ্ছ প্রকৃতি ভালোবাসে ও। আলো মেখে নেয় দু’চোখ ভরে। স্নান করে আলোয়। মুখ ধুয়ে নেয় আলোয়। আলোই যে তার কোল, স্বপ্নের ঠিকানা !

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিরহী কেকা

আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩

নিঝুম রাত্রির অন্ধকারে বিরহী কেকা গাছের ঘন পাতার আড়ালে মুখ লুকিয়ে নীরবে কাঁদে । ভয়ে কাঁপে তির তির করে । আলো খোঁজে ওর দু’নয়ন। অবশেষে অমানিশা ফিকে হয়ে অস্পষ্ট ভোর হয় মিষ্টি আলোর ভেজা পরশ নিয়ে।

পাতার আড়াল থেকে মুখ তুলে ঠান্ডা হাওয়ায় নিশ্বাস নেয় কেকা। আস্তে আস্তে বন্ধুর মত উদ্ভাসিত ভোর তার আলোকে বিরহ কাতর কেকাকে জড়িয়ে ধরে। বৈশাখী তপ্ত হাওয়া প্রকট হতে থাকে। তবুও খুশিতে এ ডাল ওডালে উড়ে প্রান ভরে আলোর সুধা পান করে শিশু মন কেকা ।

ওর জগতটা খুব বড় নয়। কাজী বাড়ীর আম বাগান ওর ঘুরে বেড়ানোর গন্ডি। কোন এক তপস্বী পাখির ধ্যান ভঙ্গ করে ও অভিশপ্ত! তাই মানিয়ে নিয়েছে তার বাগানটিকে। এক বুক কষ্টে প্রখর রদ্দুরে উঁচু ডালে বসে ঘাসের তীব্র সবুজ রঙ, নদীর সাদা জল, দূরে জেলেদের মাছ ধরা, রাখাল, গরু আরো অনেক কিছু দেখে সে। ভালো লাগে।

প্রেমহীন কেকার শাপমোচন কি হবে না কোনদিন? ওর সরল, নিষ্পাপ মন অজান্তেই বিঘ্ন ঘটিয়েছিল তপস্বী পাখীর। মনে মনে ভাবে এ কী পরিহাস? সে তো অবুঝ আর সবুজ মনের ছিল। তাহলে কেন এমন নিষ্ঠুরতা!

গরম হাওয়ার নিঃশ্বাসে ওর ঘোর কাটে সত্যি কি অভিশাপ হয়? কুহু যে নিজেই প্রতারণা করেছে তার সাথে। প্রকৃতির অমোঘ টানে তারা কাছে এসেছিল। কত দিন কত আলোর বন্যায় মালা পরিয়েছিল সে তাকে। কত গাছ ঘুরে মিষ্টি ফল এনে দিয়েছিল। এমনি ভাবে কাটছিল তার স্বপ্নময় দিন।

তারপর এলো সেই অশুভ ক্ষণ! একদিন বুঝতে পারে কেকা, কুহুর কুহক মায়ায় বন্দী ছিল সে। পালিয়ে গেছে তার মনপাখী। শুন্য দৃষ্টি , শুন্য খড় পাতার বাসা মিথ্যে হল এক নিমেষে ! অদৃশ্য কালো মেঘ ঢেকে দিল তার পৃথীবি! ছিল কি শুধুই ছলনা? ভালোবাসা কি সত্যি ছিলনা এক হিন্দু? কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তার।

একদিন ভরা জ্যোৎস্নায় একটি মিষ্টি ডুমুর ফল এনে ঠোঁটে করে খাইয়ে তার বুকের পালকে ঠোঁট মুছে কুহু বলেছিল সে শুধু কেকার। পরের দিন ভোর হল তার অচেনা। কুহু পালিয়ে গেছে। সেই থেকে রাত্রি হলে কেকা কাঁদে, ভয় পায়! সব হারানোর ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে ওর নরম শরীর।

দিনের আলোর গরম হাওয়া , নীলাকাশ , শীতল ভোর আর স্বচ্ছ প্রকৃতি ভালোবাসে ও। আলো মেখে নেয় দু’চোখ ভরে। স্নান করে আলোয়। মুখ ধুয়ে নেয় আলোয়। আলোই যে তার কোল, স্বপ্নের ঠিকানা !