পুশইন বন্ধে ভারতকে ১৩টি চিঠি: সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা, আজ দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক
- আপডেট সময় : ১০:৪২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
সীমান্তে অবৈধভাবে লোকজন ঠেলে পাঠানো (পুশইন) বন্ধ করতে ভারত সরকারকে এ পর্যন্ত ১৩টি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ভারত এখনো এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করেনি। সর্বশেষ গত সোমবারও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শিশু ও নারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর প্রচেষ্টা ঠেকাতে দেশের ২৬টি সীমান্তবর্তী জেলায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা চার পালায় ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় জনগণও বিজিবিকে সহযোগিতা করছেন।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কোনো দেশের অবৈধ নাগরিককে ফেরত পাঠানোর একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ভারতকে সেই নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নিয়মবহির্ভূত পুশইনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আজ শুরু হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক
সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে আজ নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শুরু হচ্ছে।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিএসএফের পক্ষে মহাপরিচালক প্রভীন কুমার। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন আটককেন্দ্রে থাকা নথিবিহীন অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের আট সীমান্তবর্তী জেলার ১৩টি আটককেন্দ্রে প্রায় ৪০০ জন অভিবাসী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ
আদিতমারী ও পাটগ্রাম সীমান্তে গভীর রাতে ৭০-৮০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। কাঁটাতারের বেড়ার লাইট বন্ধ করে কয়েক দফা চেষ্টা চালানো হলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার মুখে তারা পিছু হটে। বিজিবি জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।
হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা শূন্যরেখায় অবস্থান করা অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে পরে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে পুশইনের চেষ্টার পর তারা কয়েকদিন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
বড়বাড়ি সীমান্তে তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১০ জনকে গভীর রাতে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয় বিএসএফ। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা কড়া নজরদারিতে ছিলেন।
রৌমারী সীমান্তে বিএসএফ কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী ভারতীয় নাগরিককে সীমান্তের কাছে নিয়ে আসে বলে খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের লাইট বন্ধ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিজিবি ও এলাকাবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে সে চেষ্টা সফল হয়নি।
সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে ফুলবাড়ী সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, কোনো ভারতীয় নাগরিক যাতে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তে পুশইন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ একদিকে কূটনৈতিকভাবে ভারতের কাছে আপত্তি জানাচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি ও টহল বাড়িয়েছে। আজকের বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



















