ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

পরীক্ষা বন্ধ রাখলে শিক্ষকদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে : শিক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৪১ বার পড়া হয়েছে

চার দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতিতে রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দেশের বহু স্থানে পরীক্ষা হয়নি। পাবনার চাটমোহরের আফ্রাতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবার পরীক্ষা নেন অভিভাবকরা: ছবি সংগৃহিত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চার দফা দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমে সারাদেশের ৭২১টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছেন। শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কারণে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা থেমে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। রাজবাড়ী, টাঙ্গাইলের সখীপুর ও পাবনার চাটমোহরে কয়েকটি স্কুলে অভিভাবকরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরীক্ষা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সরকারি সতর্কতা উপেক্ষা করে শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় দেশের পরীক্ষার সময়সূচি ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থার মধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার আন্দোলনরত শিক্ষকদের আচরণকে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন,  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ কারণে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সরকার তার অবস্থান খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

ড. আবরার অভিযোগ করেন, শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন, যা শিক্ষকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন,  একাধিক স্কুলে পরীক্ষা হচ্ছে, আবার কোথাও হচ্ছে না, এটা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করে আন্দোলন করার অধিকার তাদের নেই।

শিক্ষকদের নবম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিকে ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  নিয়োগের সময়ই তারা জানতেন যে তারা দশম গ্রেডে থাকবেন। নবম গ্রেড বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের পদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে যুক্ত। এটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের বিষয়; হঠাৎ করে কেউ চাইলে এই গ্রেডে যেতে পারে না।

তিনি স্পষ্ট করে জানান,  পরীক্ষায় কোনো ধরনের আপস হবে না। শিক্ষকরা আগামীকাল থেকেই পরীক্ষা নিতে বাধ্য। অন্যথায় সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘনের কারণে তাদের শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ হয়েছে উল্লেখ করে ড. আবরার বলেন,  পরীক্ষা নিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আগ্রহী। কিন্তু একটি অংশ পরীক্ষা নিচ্ছে না। তাই শিক্ষকরা অবিলম্বে পরীক্ষা শুরু করবেন, অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,  শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের খেলাধুলা সহ্য করা হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পরীক্ষা বন্ধ রাখলে শিক্ষকদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে : শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

চার দফা দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমে সারাদেশের ৭২১টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছেন। শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কারণে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা থেমে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। রাজবাড়ী, টাঙ্গাইলের সখীপুর ও পাবনার চাটমোহরে কয়েকটি স্কুলে অভিভাবকরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরীক্ষা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সরকারি সতর্কতা উপেক্ষা করে শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় দেশের পরীক্ষার সময়সূচি ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থার মধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার আন্দোলনরত শিক্ষকদের আচরণকে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন,  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ কারণে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সরকার তার অবস্থান খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

ড. আবরার অভিযোগ করেন, শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন, যা শিক্ষকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন,  একাধিক স্কুলে পরীক্ষা হচ্ছে, আবার কোথাও হচ্ছে না, এটা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করে আন্দোলন করার অধিকার তাদের নেই।

শিক্ষকদের নবম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিকে ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  নিয়োগের সময়ই তারা জানতেন যে তারা দশম গ্রেডে থাকবেন। নবম গ্রেড বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের পদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে যুক্ত। এটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের বিষয়; হঠাৎ করে কেউ চাইলে এই গ্রেডে যেতে পারে না।

তিনি স্পষ্ট করে জানান,  পরীক্ষায় কোনো ধরনের আপস হবে না। শিক্ষকরা আগামীকাল থেকেই পরীক্ষা নিতে বাধ্য। অন্যথায় সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘনের কারণে তাদের শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ হয়েছে উল্লেখ করে ড. আবরার বলেন,  পরীক্ষা নিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আগ্রহী। কিন্তু একটি অংশ পরীক্ষা নিচ্ছে না। তাই শিক্ষকরা অবিলম্বে পরীক্ষা শুরু করবেন, অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,  শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের খেলাধুলা সহ্য করা হবে না।