ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই, প্রত্যর্পণ চায় ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গাজীপুরে  শ্রমিক অসন্তোষ, মাঠে ২৫ প্লাটুন বিজিবি-এসআরবি-আনসার সাতসকালে ঝরল চার প্রাণ  নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশায় বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আশার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩–৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ শ্রমিক বিক্ষোভে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর, ১৫০ কারখানায় ছুটি ফের ভরিতে সোনার দাম বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা শ্রমিক অসন্তোষে আজও মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে আলোকিত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

ডিজিটাল প্লাটফর্মে শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে, শিশু-কিশোররা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩৪৯ বার পড়া হয়েছে

শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে, মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোর

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডিজিটাল প্লাটফর্মে (ভার্চুয়াল জগৎ) শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, বিকল্প বিনোদনের সুযোগ না থাকায় শিশু কিশোররা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা সাইবার বুলিং-এর শিকার হচ্ছে। যা তাদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবারসহ সকলকে সচেতন হতে হবে।

আজ রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্পিক আপ ; ইউ-সিএসও’ প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানের এ সব কথা বলেন তারা। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ানের আর্থিক সহয়তায় উন্নয়ন সংস্থা ‘টেরে ডেস হোমস্ নেদারল্যান্ডস’ (টিডিএইচ-এনএল), আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) ও ইনসিডিন বাংলাদেশ আয়োজিত ওই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন টিডিএইচ-এনএল বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার নজরুল ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সাইফুল হাসান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিশনের টীম লিডার এনরিকো লরেনজো, ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী, বিটিএস’র জাহিদ হোসেন, আইন ও শালিস কেন্দ্রের তাহমিনা বেগম প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিনিয়ত শিশু-কিশোররা ডিজিটাল প্লাটফর্মের উপর নির্ভার হয়ে পড়ছে। কারণ আমরা তাদেরকে বিকল্প দিতে পারছি না। ডিজিটাল প্লাটফর্মের শিশু-কিশোরদের অবাধ বিচরণের কারণে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাবে নানা ধরণের হয়রানি বাড়ছে। এই অবস্থায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে মতামত প্রদানের স্বাধীনতা এবং শিশুদের অনলাইন হয়রানি ও নির্যাতনের ঝুঁকি হ্রাসে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সুশীল সমাজের সংগঠনের সাথে কর্ম-সর্ম্পক নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, শিশু ও যুবদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। যাতে তাদের অনলাইনে অংশগ্রহণ ও সক্ষমতাবৃদ্ধি পায়। তথ্য উপস্থাপন ও আইনগত সংস্কারকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে জবাবদিহিতা ও অনলাইন নিরাপত্তা কাঠামো উন্নত হয়। এক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম ও কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। শিশু ও যুব, নাগরিক সংগঠন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, অভিভাবক, কমিউনিটিসহ বিভিন্ন গোষ্ঠির সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যে বলা হয়, ‘স্পিক আপ ; ইউ-সিএসও’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ১২ থেকে ২৪ বছর বয়সী শিশু ও যুবদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা ও উন্নীত করা, বিশেষতঃ ডিজিটাল পরিসরে। প্রকল্পে অনলাইনে যৌন শোষণ ও নির্যাতন, সাইবার বুলিং, ভুল তথ্য প্রচার ও হয়রানির মতো ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলার পাশাপাশি লিঙ্গ সমতা ও অন্তর্ভুক্তির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো, নাগরিক সংগঠনগুলোর ক্ষমতায়ন করা, যাতে তারা অনলাইনে তরুণদের অধিকারের সমর্থক ও রক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারে।

তাদের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে শিশু ও যুবদের নেতৃত্বে একটি অধিকারভিত্তিক আলোচনার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে। যেখানে প্রান্তিক, প্রতিবন্ধী ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যসম্পন্ন শিশু ও যুবদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়ে ও তরুণীরা অনলাইনে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় এই প্রকল্পে লিঙ্গ-সংবেদনশীল, ট্রমা-সচেতন ও শিশু-বান্ধব পদ্ধতির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :