ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

ঋণ মওকুফে কৃষকের স্বস্তি: বিশেষ দোয়ার আয়োজন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

সরকারের কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণা শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করে কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে সারা দেশে কৃতজ্ঞতা ও প্রার্থনার আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটির তরফে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কৃষকদের কাছে সুদসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা দেশের কৃষকদের মাঝে নবপ্রাণের সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ঋণের বোঝা বহন করে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।

কিস্তির চাপ, সুদের বোঝা ও লোকসানের আশঙ্কা তাদের উৎপাদনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছিল। ঋণমুক্তির ফলে তারা এখন নতুন উদ্যমে চাষাবাদে মনোনিবেশ করতে পারবেন। কিস্তি পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন উন্নতমানের বীজ, আধুনিক সেচব্যবস্থা ও কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।

ঋণ মওকুফে কৃষকের স্বস্তি: বিশেষ দোয়ার আয়োজন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের
ঋণ মওকুফে কৃষকের স্বস্তি: বিশেষ দোয়ার আয়োজন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তকে মানবিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামে অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষের সহায়তাকে অত্যন্ত মহৎ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পবিত্র কোরআনে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেওয়া বা ঋণ মওকুফ করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আলেমরা মনে করেন, কৃষকের মতো পরিশ্রমী কিন্তু প্রাকৃতিক ঝুঁকিতে নির্ভরশীল একটি শ্রেণিকে সহায়তা করা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অংশ।

বিশেষ মোনাজাতে দেশের সমৃদ্ধি, কৃষকদের কল্যাণ এবং নেতৃত্বের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

কৃষিঋণ মওকুফের ফলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড উন্নত হবে। এতে তারা পুনরায় স্বল্পসুদে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয় মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদের ফাঁদ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির চাঙ্গা হওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১-৯৬ মেয়াদকালে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করা হয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।

কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের নেতারা জানান, তাদের মূল লক্ষ্য দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তারা মনে করেন, কৃষকের মুখে হাসি ফুটলে দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

সরকারের এই মানবিক ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপে অসংখ্য কৃষক পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে, যা একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

 

 

 

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঋণ মওকুফে কৃষকের স্বস্তি: বিশেষ দোয়ার আয়োজন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের

আপডেট সময় : ০৩:০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে সারা দেশে কৃতজ্ঞতা ও প্রার্থনার আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটির তরফে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কৃষকদের কাছে সুদসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা দেশের কৃষকদের মাঝে নবপ্রাণের সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ঋণের বোঝা বহন করে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।

কিস্তির চাপ, সুদের বোঝা ও লোকসানের আশঙ্কা তাদের উৎপাদনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছিল। ঋণমুক্তির ফলে তারা এখন নতুন উদ্যমে চাষাবাদে মনোনিবেশ করতে পারবেন। কিস্তি পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন উন্নতমানের বীজ, আধুনিক সেচব্যবস্থা ও কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।

ঋণ মওকুফে কৃষকের স্বস্তি: বিশেষ দোয়ার আয়োজন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের
ঋণ মওকুফে কৃষকের স্বস্তি: বিশেষ দোয়ার আয়োজন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তকে মানবিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামে অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষের সহায়তাকে অত্যন্ত মহৎ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পবিত্র কোরআনে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেওয়া বা ঋণ মওকুফ করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আলেমরা মনে করেন, কৃষকের মতো পরিশ্রমী কিন্তু প্রাকৃতিক ঝুঁকিতে নির্ভরশীল একটি শ্রেণিকে সহায়তা করা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অংশ।

বিশেষ মোনাজাতে দেশের সমৃদ্ধি, কৃষকদের কল্যাণ এবং নেতৃত্বের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

কৃষিঋণ মওকুফের ফলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড উন্নত হবে। এতে তারা পুনরায় স্বল্পসুদে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয় মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদের ফাঁদ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির চাঙ্গা হওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১-৯৬ মেয়াদকালে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করা হয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।

কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের নেতারা জানান, তাদের মূল লক্ষ্য দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তারা মনে করেন, কৃষকের মুখে হাসি ফুটলে দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

সরকারের এই মানবিক ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপে অসংখ্য কৃষক পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে, যা একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।