ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চামড়া: অর্থনীতিতে আয়ের উৎস, সেই মূল্যবান সম্পদের এমন অর্থহীন পরিণতি! সড়ক নয়, যেন মৃত্যুর উপত্যকা! লোবানের গন্ধে ফিকে ঈদের আনন্দ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে  উল্লেখযোগ্য পতন, কেন? ঈদুল আজহায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা দেশজুড়ে উৎসবের আমেজে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, থাকছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী  চামড়া সংগ্রহকারীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারের নজর থাকবে : বাণিজ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: অবহেলা, শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ নাকি অন্য কিছু প্রশ্নের মুখে কর্তৃপক্ষ

উপকূলের সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

উপকূলের সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উপকূলের সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের ১৯টি জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে আছে।

এরপর প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে আঘাত এই ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘ মেয়াদী সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) ও লিডার্স আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই এ সব কথা বলেন তারা। ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুলের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

সংবাদ সম্মেলন সহকারি অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সুন্দরবন দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করছে এবং কার্বন শোষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মৎস্য রফতানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় অবদান রাখছে। তবুও জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আলাদা ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট। বর্তমান সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আমিনুর রসুল বলেন, উপকূলীয় পরিবেশগত সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, টেকসই বাঁধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা গ্রহণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ২১ দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়, দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, মধ্য উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি করতে হবে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন করতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে হবে। প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে।

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করার পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িকে দুর্যোগ সহনশীল করে গড়ে তুলতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ূ খাতে বরাদ্দের হার কমছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে বরাদ্দ ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৭.৫০ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি ও সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের যথাক্রমে ৫.১৭ ও ৫.২১ শতাংশ।

এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উপকূলের সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিতসহ সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সুমন।

এছাড়াও সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, লিডার্সের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর শাকিল আহমেদ, ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহবায়ক সাদিয়া সুলতান শাপলা প্রমূখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উপকূলের সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আপডেট সময় : ১০:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

উপকূলের সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের ১৯টি জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে আছে।

এরপর প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে আঘাত এই ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘ মেয়াদী সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) ও লিডার্স আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই এ সব কথা বলেন তারা। ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুলের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

সংবাদ সম্মেলন সহকারি অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সুন্দরবন দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করছে এবং কার্বন শোষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মৎস্য রফতানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় অবদান রাখছে। তবুও জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আলাদা ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট। বর্তমান সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আমিনুর রসুল বলেন, উপকূলীয় পরিবেশগত সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, টেকসই বাঁধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা গ্রহণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ২১ দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়, দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, মধ্য উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি করতে হবে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন করতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে হবে। প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে।

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করার পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িকে দুর্যোগ সহনশীল করে গড়ে তুলতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ূ খাতে বরাদ্দের হার কমছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে বরাদ্দ ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৭.৫০ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি ও সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের যথাক্রমে ৫.১৭ ও ৫.২১ শতাংশ।

এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উপকূলের সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিতসহ সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সুমন।

এছাড়াও সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, লিডার্সের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর শাকিল আহমেদ, ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহবায়ক সাদিয়া সুলতান শাপলা প্রমূখ।