সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীরবাণিজ্য বাড়াতে ‘নীতি সহায়তায়’ জোর শেখ হাসিনার

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৯৩ Time View

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে

বিনিয়োগের প্রস্তাব। বাংলাদেশ এখন দেশি-বিদেশী বিনিয়োগে

আইসিটি শিল্পের জন্য ২৮টি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করছে।

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল গন্তব্য অভিহিত করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদেশের কোম্পানিগুলোকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও একটি হাই-টেক পার্কে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।

মঙ্গলবার ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পাঠানো ভিডিওবার্তায় দুদেশের চলমান বাণিজ্য সম্পর্ক তুলে ধরে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিল্প কাঁচামাল ও ভোক্তাসামগ্রী-যেমন তুলা, সয়াবিন ও গম রপ্তানি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো শুল্ক দিতে হয় না। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের জন্য উভয় দেশ থেকে পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা দেওয়া জরুরি।

শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা আমেরিকান উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর জন্য শিল্প-কারখানা স্থাপনের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিচ্ছি।

বাংলাদেশ এখন দেশি-বিদেশী বিনিয়োগে আইসিটি শিল্পের জন্য ২৮টি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মার্কিন কোম্পানিগুলোকে একটি হাই-টেক পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে আইসিটি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উভয় দেশেরই পর্যাপ্ত নীতিগত সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দ্রুত বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ৪ বিলিয়ন ভোক্তার বিরাট আঞ্চলিক বাজারের সঙ্গে বর্ধনশীল যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য একটি প্রতিশ্রুতিশীল গন্তব্যে পরিণত করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য টেকসই ভৌত-অবকাঠামো, আইনী ও আর্থিক সুবিধা দিচ্ছি। আমার সরকার বাংলাদেশে দ্রুত শিল্পায়ান ঘটাতে ১০০টি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপন করছে। আর আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথ যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে আমাদের পাশে থেকেছে। এটা আমাদের রপ্তানীর সর্ববৃহৎ গন্তব্য, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের বৃহত্তম উৎস, আমাদের দীর্ঘ-দিনের উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারে সক্ষম আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ ৬০টিরও বেশি দেশে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আইসিটি পণ্য রপ্তানি করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য ইউএসএআইডির কমপ্রিহেনসিভ প্রাইভেট সেক্টর মূল্যায়ন ২০১৯ অনুসারে, বাংলাদেশে আইসিটি শিল্প ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচগুণ বাড়বে এবং প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দারিদ্র্য, শোষণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অসমাপ্ত কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গত এক দশকে আমরা আর্থ-সামাজিক সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তি এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্দান্ত স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে।

ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223