আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
- আপডেট সময় : ০২:৩০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে শুধু দেশীয় চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
রোববার (২২ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ। তাই ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, ইলিশের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। শিল্পবর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ নদীতে নিঃসরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাটকা নিধন, মা ইলিশ আহরণ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ জাল ইলিশসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছের জন্য বড় হুমকি হওয়ায় এগুলোর ব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অধিকাংশ জেলে এখনও দাদননির্ভর জীবনযাপন করেন। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
ইলিশসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই জাতীয় সম্পদ হিসেবে ইলিশকে সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে হবে।
তিনি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনায় গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলেদের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সহায়তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















