ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা পলাশীর ইতিহাস বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস দুর্যোগকবলিত উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত ট্রাম্পের অযৌক্তিক যুদ্ধ ও অবাস্তব প্রত্যাশার ফল  ইরান চুক্তি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নতুন মোড় দশকের বৈরিতার পর সমঝোতা নতুন অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরীমনির সঙ্গে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ অভিযোগে চাকরি হারালেন অতিরিক্ত এসপি গোলাম সাকলায়েন এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি আলোচনার মাধ্যমে পুশ ইন সমস্যা সমাধান করা দুই দেশেরই দায়িত্ব: ডুজারিক ঢাকায় যানজটে প্রতিদিন নষ্ট প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, আর্থিক ক্ষতি ১৩৯ কোটি টাকা

ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক ♦

মালয়েশিয়া সফরে কর্মী নিতে অনুরোধ করা হবে ♦

চীন সফরে ১৭ চুক্তি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাঁর প্রথম যৌথ বিদেশ সফরে রওনা হচ্ছেন, যার প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া এবং পরবর্তী গন্তব্য চীন। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সফরকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সফরটি শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করবে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের সরকারি সফরে আজ দুপুরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি আনোয়ার ইব্রাহিম-এর আমন্ত্রণে সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। মালয়েশিয়া সফর শেষে আগামী সোমবার সন্ধ্যায় তিনি চীনের বন্দরনগরী দালিয়ান-এ পৌঁছাবেন এবং ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফর করবেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে। সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে তুলনামূলক ছোট রাখা হয়েছে।  এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন-সহ প্রায় ২৮ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

মালয়েশিয়া সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা। আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। আলোচনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, কৃষি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা করবে ঢাকা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আসিয়ান-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনা করা হবে। সফরে সংস্কৃতি বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে চীন সফরকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি ও কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চীন সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-এর বার্ষিক ‘সামার দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি “ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ” শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া-এর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

পরে তিনি বেইজিংয়ে গিয়ে লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয়োজনে “বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম”-এ বক্তব্য দিয়ে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হবে শুক্রবারের বৈঠক, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন। এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু সহযোগিতা এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উত্তরাঞ্চলের পানি উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম শাহিদুজ্জামান মনে করেন, মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুধু কয়েকটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম জোড়া বিদেশ সফরকে দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের একটি মর্যাদাপূর্ণ ও যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

কাল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক ♦

মালয়েশিয়া সফরে কর্মী নিতে অনুরোধ করা হবে ♦

চীন সফরে ১৭ চুক্তি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাঁর প্রথম যৌথ বিদেশ সফরে রওনা হচ্ছেন, যার প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া এবং পরবর্তী গন্তব্য চীন। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সফরকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সফরটি শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করবে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের সরকারি সফরে আজ দুপুরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি আনোয়ার ইব্রাহিম-এর আমন্ত্রণে সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। মালয়েশিয়া সফর শেষে আগামী সোমবার সন্ধ্যায় তিনি চীনের বন্দরনগরী দালিয়ান-এ পৌঁছাবেন এবং ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফর করবেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে। সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে তুলনামূলক ছোট রাখা হয়েছে।  এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন-সহ প্রায় ২৮ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

মালয়েশিয়া সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা। আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। আলোচনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, কৃষি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা করবে ঢাকা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আসিয়ান-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনা করা হবে। সফরে সংস্কৃতি বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে চীন সফরকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি ও কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চীন সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-এর বার্ষিক ‘সামার দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি “ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ” শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া-এর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

পরে তিনি বেইজিংয়ে গিয়ে লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয়োজনে “বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম”-এ বক্তব্য দিয়ে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হবে শুক্রবারের বৈঠক, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন। এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু সহযোগিতা এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উত্তরাঞ্চলের পানি উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম শাহিদুজ্জামান মনে করেন, মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুধু কয়েকটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম জোড়া বিদেশ সফরকে দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের একটি মর্যাদাপূর্ণ ও যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।