পরীমনির সঙ্গে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ অভিযোগে চাকরি হারালেন অতিরিক্ত এসপি গোলাম সাকলায়েন
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ‘অনৈতিক সম্পর্কে’ জড়ানোর অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম সাকলায়েন শিথিলকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘অসদাচরণের প্রমাণিত অভিযোগের’ গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে বাধ্যতামূলক অবসরের ‘গুরুদণ্ড’ দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। মামলাটির তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সে সময় গোলাম সাকলায়েন ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এর কয়েক মাস পর, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট র্যাব পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে এবং তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করে। একই রাতে চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলীকেও আটক করা হয়। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও পর্নোগ্রাফি আইনে একাধিক মামলা করা হয়।
পরীমনির বাসায় অভিযানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, অভিযানের তিন দিন আগে তিনি গোলাম সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিলেন। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করা হয়, ১ আগস্ট সকালে পরীমনি ওই বাসায় প্রবেশ করেন এবং গভীর রাতে সেখান থেকে বের হন।
এসব সংবাদ প্রকাশের পর গোলাম সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে বদলি করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় গোলাম সাকলায়েন পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেন এবং স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে নিজের সরকারি বাসভবনে সময় কাটান। এসব ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে সরকার মনে করে।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩(খ) ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগপত্র পাঠিয়ে তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ চাওয়া হয়।
তিন মাস পর তিনি লিখিত জবাব দেন এবং একই বছরের ২৩ আগস্ট তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে গোলাম সাকলায়েন পুলিশের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বুধবার এ শাস্তির অনুমোদন দেন। এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আলোচিত এই ঘটনার প্রশাসনিক পরিণতি চূড়ান্ত হলো।



















