ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সফল দেশের স্বীকৃতি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমের শিকার পরিবারের ভাতা বরাদ্দ এই বাজেটেই প্রতিশ্রুতি মির্জা ফখরুলের হামে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে উদ্বেগ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন বাংলা কিউআর চালু হলে বদলে যাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপে চাপা শত শত প্রাণ, উদ্ধার ২৩৫ মরদেহ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক তিয়েনআনমেন চীনের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ১২৫ বার পড়া হয়েছে

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৭৫ সালে ভারতের নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য এক গভীর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধের উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করা।

কিন্তু এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। নদী শুকিয়ে যাওয়া, কৃষিতে ক্ষতি, মৎস্যসম্পদের ধ্বংস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ-এর নেতৃত্ব দেন। তখন তার বয়স ছিল ৯০ বছরেরও বেশি।

অসুস্থতা থেকে সদ্য হাসপাতাল ফেরত এই নেতা ঘোষণা দেন, বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তিনি আন্দোলনে নামবেন।

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ
ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ

লংমার্চ বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২ মে ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি” গঠন করা হয়। এর আগে ভাসানী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-কে চিঠি লিখে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানান।

১৬ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে হাজার-হাজার মানুষের অংশগ্রহণে লংমার্চ শুরু হয়। রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে শিবগঞ্জ অভিমুখে প্রায় ৬৪ মাইল পথ অতিক্রম করার পরিকল্পনা ছিল।

প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও জনস্রোত থেমে যায়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।

সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, মাদ্রাসা ময়দানে জনসমুদ্রের সামনে ভাসানী সংক্ষিপ্ত ভাষণে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানান। পথে পথে সাধারণ মানুষ মিছিলকারীদের পানি ও খাবার দিয়ে সহায়তা করেন।

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ
ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে গাড়ি চলতে পারে : ছবি সংগ্রহ

কানসাটের জনসভায় ভাসানী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের পানির ন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করে, তবে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন শুরু হবে।

তবে সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে তিনি মিছিলকারীদের সীমান্তের কাছে যেতে নিষেধ করেন। এভাবেই শেষ হয় ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ।

ফারাক্কা আন্দোলন বাংলাদেশের পানির অধিকার প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় নিয়ে আসে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবুও শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রাপ্তি নিয়ে এখনও অভিযোগ রয়েছে।

ফারাক্কা লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল বাংলাদেশের অস্তিত্ব, পরিবেশ ও ন্যায্য পানির অধিকারের পক্ষে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন।

নব্বই বছর বয়সে ভাসানীর নেতৃত্ব আজও সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০২:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

১৯৭৫ সালে ভারতের নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য এক গভীর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধের উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করা।

কিন্তু এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। নদী শুকিয়ে যাওয়া, কৃষিতে ক্ষতি, মৎস্যসম্পদের ধ্বংস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ-এর নেতৃত্ব দেন। তখন তার বয়স ছিল ৯০ বছরেরও বেশি।

অসুস্থতা থেকে সদ্য হাসপাতাল ফেরত এই নেতা ঘোষণা দেন, বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তিনি আন্দোলনে নামবেন।

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ
ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ

লংমার্চ বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২ মে ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি” গঠন করা হয়। এর আগে ভাসানী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-কে চিঠি লিখে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানান।

১৬ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে হাজার-হাজার মানুষের অংশগ্রহণে লংমার্চ শুরু হয়। রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে শিবগঞ্জ অভিমুখে প্রায় ৬৪ মাইল পথ অতিক্রম করার পরিকল্পনা ছিল।

প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও জনস্রোত থেমে যায়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।

সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, মাদ্রাসা ময়দানে জনসমুদ্রের সামনে ভাসানী সংক্ষিপ্ত ভাষণে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানান। পথে পথে সাধারণ মানুষ মিছিলকারীদের পানি ও খাবার দিয়ে সহায়তা করেন।

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ
ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে গাড়ি চলতে পারে : ছবি সংগ্রহ

কানসাটের জনসভায় ভাসানী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের পানির ন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করে, তবে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন শুরু হবে।

তবে সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে তিনি মিছিলকারীদের সীমান্তের কাছে যেতে নিষেধ করেন। এভাবেই শেষ হয় ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ।

ফারাক্কা আন্দোলন বাংলাদেশের পানির অধিকার প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় নিয়ে আসে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবুও শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রাপ্তি নিয়ে এখনও অভিযোগ রয়েছে।

ফারাক্কা লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল বাংলাদেশের অস্তিত্ব, পরিবেশ ও ন্যায্য পানির অধিকারের পক্ষে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন।

নব্বই বছর বয়সে ভাসানীর নেতৃত্ব আজও সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।