ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা, কারিগরি সহায়তা, বাস্তবায়ন এবং যৌথ সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি) সমীক্ষাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করতে চায় দেশটি।

বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের দাইওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন শুরু থেকেই কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী। বিশেষ করে যৌথ ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা (টোটাল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট) ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় চীনের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। তবে চীন থেকে আমদানির তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক কম। এ ব্যবধান কমাতে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনে শুল্কমুক্ত (ডিউটি-ফ্রি) প্রবেশাধিকার রয়েছে। এই সুবিধা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার টন কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ফল, সবজি, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, মৎস্য, ওষুধ, সিরামিক এবং হাইটেক শিল্পের পণ্য রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) তৈরির বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহী।

মুখপাত্র আরও বলেন, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি চীনা ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে চায়। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চীন।

তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসম্পৃক্ততা (পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি) বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা ভিসা সহজ করা, বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় সহযোগিতা এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগে হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা সহজ করা এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন

আপডেট সময় : ১১:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা, কারিগরি সহায়তা, বাস্তবায়ন এবং যৌথ সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি) সমীক্ষাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করতে চায় দেশটি।

বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের দাইওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন শুরু থেকেই কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী। বিশেষ করে যৌথ ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা (টোটাল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট) ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় চীনের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। তবে চীন থেকে আমদানির তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক কম। এ ব্যবধান কমাতে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনে শুল্কমুক্ত (ডিউটি-ফ্রি) প্রবেশাধিকার রয়েছে। এই সুবিধা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার টন কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ফল, সবজি, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, মৎস্য, ওষুধ, সিরামিক এবং হাইটেক শিল্পের পণ্য রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) তৈরির বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহী।

মুখপাত্র আরও বলেন, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি চীনা ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে চায়। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চীন।

তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসম্পৃক্ততা (পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি) বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা ভিসা সহজ করা, বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় সহযোগিতা এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগে হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা সহজ করা এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।