ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  প্রস্তুতি দুই দেশেই

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  প্রস্তুতি দুই দেশেই

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিল্লিতে বিমসটেক সম্মেলনের আগে আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি চলছে। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ২২ বা ২৩ আগস্ট দুই দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত বা ঘোষণা করা হয়নি।

সম্ভাব্য এ সফর হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের নতুন সমীকরণে সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে। সেখানে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ট্রানজিট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। একই সময়ে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ব্রিকসের অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় সফরকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সম্ভাব্য সফরের আগে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। গত এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ঢাকার পক্ষ থেকে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

সম্ভাব্য ভারত সফরে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা নিজস্ব আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করছে। তবে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়।

৫ আগস্ট একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অডিও কলে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার জন্য ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং সেখানে প্রকাশিত বক্তব্যের প্রতিও তাদের কোনো সমর্থন নেই। ফলে সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকে বিষয়টি কীভাবে উত্থাপন করা হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত

দুই দেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে পানি বণ্টন, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ও যোগাযোগ অন্যতম। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকায় এর নবায়ন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক যোগাযোগ দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টি স্পষ্ট করে। ফলে সম্পর্কের উন্নতি হলে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফরে দুই দেশের সব সমস্যার সমাধান হবে, এমন প্রত্যাশা নেই। তবে তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি বৈঠক নতুন বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ও প্রত্যাশা তুলে ধরার পাশাপাশি ভারতের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা জানার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সফরের তারিখ চূড়ান্ত হলে এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। কঠিন বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে নয়, বরং সরাসরি আলোচনা, পারস্পরিক আস্থা ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :