ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭ নেতার মৃত্যুদন্ড সম্পত্তির অর্ধেক জুলাইযোদ্ধাদের একটানে জালে ওঠে আসে ২৬ লাখ টাকার ২ হাজার ২০০টি কাঙ্খিত  ইলিশ  কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন  বাড়ানোর তাগিদ  প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব  আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট চায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত হুমায়ুন ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ রামপালের এক ইউনিট বন্ধ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক শেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ শেরপুরে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধের চালান জব্দ ‘আমেরিকানরা যোদ্ধা হলে ইরানের বীর বাহিনীর মুখোমুখি হোক’: পেজেশকিয়ান

Vidyasagar : কার্মাটারে বিদ্যাসাগরের তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২ ৮১২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি : অগ্নিশিখা

‘সময়টা ১৮৭৩-৭৪ সাল। ঝাড়খণ্ডের কার্মাটারে ৫০০ টাকায় একটি বাড়ি কিনে সেখানে চলে গিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর, সেখানের অসহায়, গরীব মানুষের সেবায় ডুবিয়ে দিয়েছিলেন নিজেকে’

 

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

জীবন এবং চারপাশের পৃথিবীটা যখন ভীষণভাবে তাঁর কাছে প্রতিকূল হয়ে উঠছিল, তখন তিনি ঝাড়খণ্ডের কার্মাটারে ৫০০ টাকায় একটা বাড়ি কিনে চলে গিয়ে ছিলেন। সালটা ছিল ১৮৭৩-৭৪। সেখানে নির্জন সাঁওতালপল্লিতে দরিদ্র আদিবাসীদের সারল্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাদের তিনি ভীষণভাবে ভালবেসে ছিলেন। অসহায়, গরীব মানুষের সেবায় নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।

সেখানে মেথরপল্লিতে উপস্থিত থেকে নিজের হাতে কলেরা রোগীর সেবা শুশ্রুষা করেছেন। হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় কার্মাটারের মানুষগুলোকে মোটা চাদর কিনে বিতরণ করেছেন। সাঁওতালদের হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিতেন। বাতাসা, মিছরি দিতেন। প্রতি বছর পুজোর সময় জামাকাপড় কিনে দিতেন। কলকাতায় ঘুরে যাবার সময় ফল নিয়ে আসতেন। সরল সাদাসিধে মানুষগুলিকে নিয়ে এভাবেই দিন কেটে যেত তাঁর। সাঁওতালরা তাঁকে দেবতার মতো শ্রদ্ধা করতেন। এসবই এখন ইতিহাস।

‘বিদ্যাসাগরের তিরোধান দিবসে’ সেই কার্মাটারে দলবল নিয়ে ছুটে গিয়ে অগ্নিশিখা। যারা সমাজকে পথ দেখিয়েছেন, নিজেদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছেন, সেই মানুষটির তিরোধান দিবসে বসে তাকেন অগ্নিশিখা।

ছুটে যান ঝাড়খন্ডে কার্মাটারে বিদ্যাসাগরের নন্দনকাননের বাড়িতে। সেখানে অবনত মস্তকে শ্রদ্দা নিবেদন করে নিজেকে অনেকটা হাল্কা অনুভব করেন অগ্নিশিখা। বিদ্যাসাগর সেখানে আদিবাসি কন্যাদের উন্নতিকল্পে বহু কাজ করেছিলেন।

তাঁর সেই আদিবাসি কন্যারা আজো নন্দনকানন বাসভবনে আসলে অতিথিদের আদর যত্নে ভরিয়ে দেন। তাদের হাতের তিন বেলা রান্না যেন এক অদ্ভূত স্বাদ। ভরছিলেন অগ্নিশিখা।

নিজে ভাত তেমন একটা খাওয়া না হলেও নন্দনকাননে আসলে দুইবেলা খাওয়া হয়ে যায়। মুরগী বা মাছের ঝোল, যাই হোকনা কেন, সাথে এখানের পাহাড়ি চালের যেন একটা মাদকতা, তাই একানে আসলে খাওয়া প্রচন্ড বেড়ে যায়। অবশ্য এই মধুপুর, কার্মাটার, গিরিডি এই সব অঞ্চলের গভীর নলকূপের মিনারেল ওয়াটারও ভীষণ ভাবে ক্ষিদে বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এখানে আসলে সত্যিই শরীর মন ভাল হয়ে যায়।

বিদ্যাসাগরের এই বাড়িতে থাকার জন্য বেশ কিছু ঘর ও স্টিল অথরিটির তৈরী কিছু কটেজ রয়েছে। এককথায় বিদ্যাসাগরের বহু স্মৃতি বিজরিত এই নন্দন কাননে আসলে মনে এখানে যদি আরও ক’টা দিন থেকে যাওয়া যেতো

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Vidyasagar : কার্মাটারে বিদ্যাসাগরের তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২

ছবি : অগ্নিশিখা

‘সময়টা ১৮৭৩-৭৪ সাল। ঝাড়খণ্ডের কার্মাটারে ৫০০ টাকায় একটি বাড়ি কিনে সেখানে চলে গিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর, সেখানের অসহায়, গরীব মানুষের সেবায় ডুবিয়ে দিয়েছিলেন নিজেকে’

 

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

জীবন এবং চারপাশের পৃথিবীটা যখন ভীষণভাবে তাঁর কাছে প্রতিকূল হয়ে উঠছিল, তখন তিনি ঝাড়খণ্ডের কার্মাটারে ৫০০ টাকায় একটা বাড়ি কিনে চলে গিয়ে ছিলেন। সালটা ছিল ১৮৭৩-৭৪। সেখানে নির্জন সাঁওতালপল্লিতে দরিদ্র আদিবাসীদের সারল্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাদের তিনি ভীষণভাবে ভালবেসে ছিলেন। অসহায়, গরীব মানুষের সেবায় নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।

সেখানে মেথরপল্লিতে উপস্থিত থেকে নিজের হাতে কলেরা রোগীর সেবা শুশ্রুষা করেছেন। হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় কার্মাটারের মানুষগুলোকে মোটা চাদর কিনে বিতরণ করেছেন। সাঁওতালদের হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিতেন। বাতাসা, মিছরি দিতেন। প্রতি বছর পুজোর সময় জামাকাপড় কিনে দিতেন। কলকাতায় ঘুরে যাবার সময় ফল নিয়ে আসতেন। সরল সাদাসিধে মানুষগুলিকে নিয়ে এভাবেই দিন কেটে যেত তাঁর। সাঁওতালরা তাঁকে দেবতার মতো শ্রদ্ধা করতেন। এসবই এখন ইতিহাস।

‘বিদ্যাসাগরের তিরোধান দিবসে’ সেই কার্মাটারে দলবল নিয়ে ছুটে গিয়ে অগ্নিশিখা। যারা সমাজকে পথ দেখিয়েছেন, নিজেদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছেন, সেই মানুষটির তিরোধান দিবসে বসে তাকেন অগ্নিশিখা।

ছুটে যান ঝাড়খন্ডে কার্মাটারে বিদ্যাসাগরের নন্দনকাননের বাড়িতে। সেখানে অবনত মস্তকে শ্রদ্দা নিবেদন করে নিজেকে অনেকটা হাল্কা অনুভব করেন অগ্নিশিখা। বিদ্যাসাগর সেখানে আদিবাসি কন্যাদের উন্নতিকল্পে বহু কাজ করেছিলেন।

তাঁর সেই আদিবাসি কন্যারা আজো নন্দনকানন বাসভবনে আসলে অতিথিদের আদর যত্নে ভরিয়ে দেন। তাদের হাতের তিন বেলা রান্না যেন এক অদ্ভূত স্বাদ। ভরছিলেন অগ্নিশিখা।

নিজে ভাত তেমন একটা খাওয়া না হলেও নন্দনকাননে আসলে দুইবেলা খাওয়া হয়ে যায়। মুরগী বা মাছের ঝোল, যাই হোকনা কেন, সাথে এখানের পাহাড়ি চালের যেন একটা মাদকতা, তাই একানে আসলে খাওয়া প্রচন্ড বেড়ে যায়। অবশ্য এই মধুপুর, কার্মাটার, গিরিডি এই সব অঞ্চলের গভীর নলকূপের মিনারেল ওয়াটারও ভীষণ ভাবে ক্ষিদে বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এখানে আসলে সত্যিই শরীর মন ভাল হয়ে যায়।

বিদ্যাসাগরের এই বাড়িতে থাকার জন্য বেশ কিছু ঘর ও স্টিল অথরিটির তৈরী কিছু কটেজ রয়েছে। এককথায় বিদ্যাসাগরের বহু স্মৃতি বিজরিত এই নন্দন কাননে আসলে মনে এখানে যদি আরও ক’টা দিন থেকে যাওয়া যেতো