ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আর্থিক খাতসহ অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সক্রিয় সমর্থন কামনা: প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত সরকারের নিজেদের জ্বালানি থাকতে বিদেশ  নির্ভরতা কেন: জ্বালানিমন্ত্রী রাজপথে আন্দোলনের স্মৃতি আর নেতাদের সঙ্গে ছবি, কোনোভাবেই অপরাধের ঢাল হতে পারে না পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য: পদে পদে হয়রানির শিকার রোগীরা উৎপাদন সক্ষমতার  নামে বিপর্যয়:  ৭ বছর ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ৬৩৩ শতাংশ ২,২৭৬ নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যার অভিযোগে আবারও ট্রাইব্যুনালে বিএনপি চীন সফরে ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

Pakistan : বেলুচিস্তানে ঈদে মিলাদুন্নবির মিছিলে বিস্ফোরণে নিহত ৫২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বালুচিস্তানের মাস্তং ছবি: এএফপি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকিস্তানের বালুচিস্তানে ধর্মীয় জমায়েতে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৫২, আহত প্রায় দেড়শো

নিহতদের তালিকায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন 

‘বিস্ফোরণের কিছু ক্ষণ পরেই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ঘটনার দায় অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে’

চলতি মাসের গোড়ায় বালুচিস্তানের মাস্তংয়েই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন ‘ইসলামাবাদপন্থী’ জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-এর ফজল নেতা হাফিজ হামিদুল্লা

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে আত্মঘাতী হামলায় ৫২ জন নিহতর খবর পাওয়া গেছে। আহত প্রায় ১৫০ জন।

পাকিস্তানের বালুচিস্তানের প্রদেশের মাস্তং জেলার সদর শহরে একটি ধর্মীয় জমায়েতে শুক্রবারের বিস্ফোরণে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন। পাক সংবাদপত্র ‘দ্য ডন’ জানাচ্ছে গুরুতর আহতের সংখ্যা ১৩০-এরও বেশি। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক ডিএসপি-সহ বালুচিস্তান পুলিশের কয়েক জন কর্মী। প্রাথমিক ভাবে একে মানববোমার হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

মাস্তংয়ের সহকারী কমিশনার (এসি) আত্তাহুল মুনিম জানিয়েছেন, আলফালাহ রোডে মদিনা মসজিদের সামনে ঈদ-ই-মিলাদুন উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিছিলের জমায়েতে বিস্ফোরণের ঘটনা। হতহতদের দ্রুত অদূরের শহিদ নবাব ঘৌস বখ্শ রাইসানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বেশ কিছু যানবাহন এবং আশাপাশের কয়েকটি দোকানেরও ক্ষতি হয়েছে।

বালুচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি (বিএনএ)’র মতো স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির পাশাপাশি সেই এলাকায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) বিদ্রোহীরাও সক্রিয়। সম্প্রতি পাক সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য স্বাধীনতাপন্থী বালুচদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে টিটিপি।

চলতি মাসের গোড়ায় মাস্তংয়েই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন ইসলামাবাদপন্থী জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-এর ফজল নেতা হাফিজ হামিদুল্লা। বিস্ফোরণের কিছু ক্ষণ পরেই টিটিপি ঘটনার দায় অস্বীকার করে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালের ১১ অগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল দেশীয় রাজ্য কালাত। ১২ অগস্ট কালাতের শাসক মির সুলেমান দাউদ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার মেয়াদ ছিল মাত্র ৭ মাস তথা ১৯৪৮-এর ২৭ মার্চ পর্যন্ত। বালুচিস্তানের মানুষের কাছে সেই দিনটা আজও যন্ত্রণার ‘পরাধীনতা দিবস’!

৭ দশক আগে এই দিনেই পাকিস্তানি সেনা দখল করেছিল বালুচিস্তান। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তৎকালীন শাসককে বাধ্য করেছিল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে। বালুচিস্তানের পরবর্তী ইতিহাস ফের নতুন স্বাধীনতার যুদ্ধের এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর কয়েক হাজার মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার।

পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালুচিস্তান প্রাকৃতিক ভাবে সবচেয়ে সম্পদশালী। ধীরে ধীরে তা বেহাত হয়ে যাচ্ছে বালোচ নাগরিকদের। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) তৈরির পরে গত কয়েক বছরে সেই লুট আরও বেড়েছে। পশ্চিম চিনের শিনজিয়াং প্রদেশের কাশগড় থেকে শুরু হওয়া সেই রাস্তা কারাকোরাম পেরিয়ে ঢুকেছে পাকিস্তানে। প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শেষ হয়েছে বালুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে চিন নিয়ন্ত্রিত গ্বদর বন্দরে।

এই রাস্তা ব্যবহার করেই ইসলামাবাদ এবং বেজিংয়ের শাসকেরা বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে বলে বালুচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি (বিএনএ), বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র মতো স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির অভিযোগ। এমনকি, সম্প্রতি গ্বদর উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরাও চিনাদের আপত্তিতে বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

বালুচিস্তানের গাঁধী বলে পরিচিত স্বাধীনতাপন্থী নেতা আবদুল কাদির বালোচ বছর কয়েক আগে দিল্লি এসে বলেছিলেন, তারা চান ১৯৭১-এ ভারত যে ভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল, সে ভাবেই পাশে দাঁড়াক বালুচিস্তানের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে বালুচিস্তানের ওপর পাক নিপীড়ন বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হওয়ার আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

Pakistan : বেলুচিস্তানে ঈদে মিলাদুন্নবির মিছিলে বিস্ফোরণে নিহত ৫২

আপডেট সময় : ০২:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

পাকিস্তানের বালুচিস্তানে ধর্মীয় জমায়েতে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৫২, আহত প্রায় দেড়শো

নিহতদের তালিকায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন 

‘বিস্ফোরণের কিছু ক্ষণ পরেই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ঘটনার দায় অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে’

চলতি মাসের গোড়ায় বালুচিস্তানের মাস্তংয়েই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন ‘ইসলামাবাদপন্থী’ জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-এর ফজল নেতা হাফিজ হামিদুল্লা

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে আত্মঘাতী হামলায় ৫২ জন নিহতর খবর পাওয়া গেছে। আহত প্রায় ১৫০ জন।

পাকিস্তানের বালুচিস্তানের প্রদেশের মাস্তং জেলার সদর শহরে একটি ধর্মীয় জমায়েতে শুক্রবারের বিস্ফোরণে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন। পাক সংবাদপত্র ‘দ্য ডন’ জানাচ্ছে গুরুতর আহতের সংখ্যা ১৩০-এরও বেশি। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক ডিএসপি-সহ বালুচিস্তান পুলিশের কয়েক জন কর্মী। প্রাথমিক ভাবে একে মানববোমার হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

মাস্তংয়ের সহকারী কমিশনার (এসি) আত্তাহুল মুনিম জানিয়েছেন, আলফালাহ রোডে মদিনা মসজিদের সামনে ঈদ-ই-মিলাদুন উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিছিলের জমায়েতে বিস্ফোরণের ঘটনা। হতহতদের দ্রুত অদূরের শহিদ নবাব ঘৌস বখ্শ রাইসানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বেশ কিছু যানবাহন এবং আশাপাশের কয়েকটি দোকানেরও ক্ষতি হয়েছে।

বালুচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি (বিএনএ)’র মতো স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির পাশাপাশি সেই এলাকায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) বিদ্রোহীরাও সক্রিয়। সম্প্রতি পাক সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য স্বাধীনতাপন্থী বালুচদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে টিটিপি।

চলতি মাসের গোড়ায় মাস্তংয়েই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন ইসলামাবাদপন্থী জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-এর ফজল নেতা হাফিজ হামিদুল্লা। বিস্ফোরণের কিছু ক্ষণ পরেই টিটিপি ঘটনার দায় অস্বীকার করে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালের ১১ অগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল দেশীয় রাজ্য কালাত। ১২ অগস্ট কালাতের শাসক মির সুলেমান দাউদ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার মেয়াদ ছিল মাত্র ৭ মাস তথা ১৯৪৮-এর ২৭ মার্চ পর্যন্ত। বালুচিস্তানের মানুষের কাছে সেই দিনটা আজও যন্ত্রণার ‘পরাধীনতা দিবস’!

৭ দশক আগে এই দিনেই পাকিস্তানি সেনা দখল করেছিল বালুচিস্তান। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তৎকালীন শাসককে বাধ্য করেছিল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে। বালুচিস্তানের পরবর্তী ইতিহাস ফের নতুন স্বাধীনতার যুদ্ধের এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর কয়েক হাজার মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার।

পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালুচিস্তান প্রাকৃতিক ভাবে সবচেয়ে সম্পদশালী। ধীরে ধীরে তা বেহাত হয়ে যাচ্ছে বালোচ নাগরিকদের। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) তৈরির পরে গত কয়েক বছরে সেই লুট আরও বেড়েছে। পশ্চিম চিনের শিনজিয়াং প্রদেশের কাশগড় থেকে শুরু হওয়া সেই রাস্তা কারাকোরাম পেরিয়ে ঢুকেছে পাকিস্তানে। প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শেষ হয়েছে বালুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে চিন নিয়ন্ত্রিত গ্বদর বন্দরে।

এই রাস্তা ব্যবহার করেই ইসলামাবাদ এবং বেজিংয়ের শাসকেরা বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে বলে বালুচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি (বিএনএ), বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র মতো স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির অভিযোগ। এমনকি, সম্প্রতি গ্বদর উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরাও চিনাদের আপত্তিতে বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

বালুচিস্তানের গাঁধী বলে পরিচিত স্বাধীনতাপন্থী নেতা আবদুল কাদির বালোচ বছর কয়েক আগে দিল্লি এসে বলেছিলেন, তারা চান ১৯৭১-এ ভারত যে ভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল, সে ভাবেই পাশে দাঁড়াক বালুচিস্তানের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে বালুচিস্তানের ওপর পাক নিপীড়ন বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হওয়ার আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি।