সময় হলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: দীনেশ ত্রিবেদী
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয়
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের জন্য কোনো তাড়াহুড়া নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, যখন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মনে করবেন যে সফরের জন্য সুবিধাজনক সময় হয়েছে, তখনই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন। তাঁর ভাষায়, ‘যখন সময় হবে, নিশ্চয়ই হবে। সবকিছুই ইতিবাচক আছে।
মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ভারতের হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী নভেম্বরে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে সফর নিয়ে তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই। উপযুক্ত সময় হলেই সফরটি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। এ বিষয়ে তিনি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উভয়েই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের জনগণও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দুই দিকেই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইতিবাচক। তাঁর মতে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন মনে করবেন যে সফরের জন্য সময়টি সুবিধাজনক, তখনই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথাও জানান তিনি।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরও দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন।
ফলে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সুবিধাজনক সময়ে সফরটি আয়োজনের বিষয়েই আপাতত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ককে ভবিষ্যৎমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।



















