সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাসস
বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করতে ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ ঋণের আওতায় বিশেষ করে নারী ও প্রচলিত ব্যাংকঋণের বাইরে থাকা পরিবারগুলো আবাসন অর্থায়নের সুযোগ পাবে।
এডিবির অনুমোদিত ঋণের মধ্যে ৪ কোটি ডলার দেওয়া হবে সংস্থাটির জলবায়ু অভিযোজন তহবিল থেকে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরও ৬ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হবে।
এডিবির অর্থ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এর আওতাভুক্ত যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এ অর্থ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হবে। ঋণগ্রহীতারা নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর মেরামত ও উন্নয়নে এ অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।
এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি এবং আবাসন ঋণ পাওয়ার সীমিত সুযোগ মোকাবিলায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো প্রচলিত আবাসন ঋণব্যবস্থার বাইরে থাকায় এ উদ্যোগ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, আবাসন মানুষের মর্যাদা, সুযোগ ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাড়ি নির্মাণে সহায়তার মাধ্যমে প্রকল্পটি দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা থাকবেন।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় আর্থিক ও ভূমিসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসনের অধিকার সম্পর্কেও মানুষকে সচেতন করা হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঋণগ্রহীতাদের স্বামী-স্ত্রীর বসবাসসংক্রান্ত ব্যবস্থার যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করতে ঘরের নকশা, নির্মাণপ্রক্রিয়া এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলোও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় ঘরগুলো আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
এডিবি জানিয়েছে, প্রকল্পটি দেশের আবাসন অর্থায়নব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি তথ্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্যোগঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ ও ডিজিটাল প্রতিবেদনব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে।



















