মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’
- আপডেট সময় : ১২:২২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
একজন মায়ের ছোট্ট অনুরোধ। কিন্তু সেই অনুরোধই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল অসংখ্য মা-বাবা ও শিশুর জন্য স্বস্তির একটি জায়গা। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য চালু হয়েছে বিশেষ একটি স্পোর্টস জোন ‘খেলা ঘর’। মায়ের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলা ঘর’ উদ্বোধন করেন দীনেশ ত্রিবেদী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেই মা-ও, যার একটি সাধারণ অনুরোধ থেকে এই উদ্যোগের সূচনা।
ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে যান ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সেসময় ভিসা সেবা নিতে আসা এক মা তার সঙ্গে কথা বলেন। সঙ্গে থাকা ছোট শিশুকে নিয়ে ভিসা কেন্দ্রে অপেক্ষা করার অসুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি একটি নিরাপদ খেলার জায়গার অনুরোধ জানান।
মায়ের কথাটি ছিল খুবই সাধারণ—কিন্তু বাস্তবতাটা ছিল অনেক কঠিন। ভিসা আবেদন করতে অনেক মা-বাবাকেই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আসতে হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে ছোট শিশুদের সামলানো তাদের জন্য হয়ে ওঠে বাড়তি দুশ্চিন্তার বিষয়। আবার অনেক মায়ের পক্ষেই সন্তানকে বাড়িতে রেখে একা ভিসা কেন্দ্রে আসা সম্ভব হয় না। ফলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার সময় শিশুর নিরাপদে থাকার একটি জায়গা থাকলে তা শুধু শিশুদের জন্য নয়, অভিভাবকদের জন্যও বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে।

হাইকমিশনার সেই মায়ের অনুরোধটি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই অনুরোধ বাস্তবে রূপ নেয়। তৈরি হয় শিশুদের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ ‘খেলা ঘর’। সবচেয়ে আবেগঘন বিষয় হলো, যে মা একদিন নিজের সন্তানের জন্য একটি খেলার জায়গার অনুরোধ করেছিলেন, তিনিই এবার নিজের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সেই জায়গার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একজন মায়ের সাধারণ একটি অনুরোধ কখনো কখনো তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। শিশু সন্তানসহ ভিসা সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য ‘খেলা ঘর’ তারই একটি উদাহরণ।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হয়তো এখানেই, এটি কোনো বড় পরিকল্পনা বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হয়নি। শুরু হয়েছিল একজন মায়ের প্রয়োজন থেকে। নিজের সন্তানের কথা ভেবে করা সেই অনুরোধ আজ অন্য অনেক শিশু ও মায়ের জন্যও স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদীর এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি খেলার জায়গা তৈরির ঘটনা নয়; এটি মানুষের কথা শোনা, ছোট একটি প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সেই প্রয়োজনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি মানবিক দৃষ্টান্ত।
ভারতীয় হাইকমিশনের ভাষায়, জনকেন্দ্রিক এমন উদ্যোগই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। কারণ দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যোগাযোগ নয়, বরং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও মানবিক সংযোগ।
একজন মায়ের অনুরোধ থেকে শুরু হওয়া এই ‘খেলা ঘর’ যেন সেই মানবিক সম্পর্কেরই ছোট্ট কিন্তু উজ্জ্বল একটি প্রতিচ্ছবি।



















