ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, চা-রুটি খাইয়ে দিচ্ছিল ৯ বছরের মেয়ে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী বিরাজলক্ষী ঘোষের কবিতা ‘ঈশ্বরের সাথে মেঘের মাঝে’ সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী আয়ুর্বেদে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ  গবেষণা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী

থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

দেবিদ্বারে ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডায়াবেটিসের কারণে প্রতিদিনের মতো সেদিনও সকালে হাঁটতে বের হওয়ার কথা ছিল ফরিদা বেগমের। কিন্তু সকাল গড়িয়ে গেলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরলেন না। স্বজনেরা প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। তাই আশপাশের বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজন সবখানেই খোঁজ শুরু হয়। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়।

কিন্তু যত সময় গড়াতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা। স্বজনদের দাবি, ফরিদা বেগম নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি।

এরপর সন্ধ্যায় ঘটে হৃদয়বিদারক ঘটনা। ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলেও পরে প্যাকেটগুলোর ভেতর ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

সন্ধ্যায় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোক, ক্ষোভ আর আতঙ্ক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, হত্যার পর পরিচয় ও ঘটনা আড়াল করতে মরদেহটি টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরা হয়। পরে প্যাকেটগুলো একটি বস্তায় করে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফরিদার বাসার ভাড়াটে লাইলী বেগমকে আটক করে মারধর করেন এবং বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও বিক্ষুব্ধ মানুষ অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন। তাদের মধ্যে তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনের নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ফরিদার খণ্ডিত মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পা এখনো উদ্ধার হয়নি। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

প্রতিদিন সুস্থ থাকার আশায় যে নারী হাঁটতে বের হতেন, তার এমন নির্মম পরিণতি এখন পরিবার, প্রতিবেশী ও পুরো এলাকার মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন রেখে গেছে, কী অপরাধ ছিল ফরিদার?

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :